ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

‘বড় গবেষণার ক্ষেত্রে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হব’

মাসুদুল হাসান অলড্রিন

মাসুদুল হাসান অলড্রিন

জানুয়ারি ৮, ২০২৩, ১০:৫১ এএম

‘বড় গবেষণার ক্ষেত্রে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হব’

অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের জন্ম ১৯৬৪ সালের ১ জুলাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়। ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। 

১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি ফার্সি ভাষায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে ‘রিলিজিয়ন ইন আমেরিকান পাবলিক লাইফ’ বিষয়ে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল গবেষক হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের সেন্টার ফর খ্রিশ্চিয়ান মুসলিম রিলেশনসে ‘মুসলিম কমিউনিটি ইন ইউকে’ বিষয়ে গবেষণা করেন। 

এছাড়া তিনি ঢাবির আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান, কলা অনুষদের নির্বাচিত ডিন ও কবি জসীমউদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিন দফায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং দুই মেয়াদে সহসভাপতি নির্বাচিত হন। সমসাময়িক নানা ইস্যুতে আমার সংবাদের মুখোমুখি হয়েছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার মাসুদুল হাসান অলড্রিন

আমার সংবাদ : সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে বিদেশি কূটনীতিকদের রাজনৈতিক তৎপরতা কীভাবে দেখছেন স্যার...

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : স্বাধীনতার পরও বারবার এ ধরনের তৎপরতা আমরা দেখেছি। দেশি-বিদেশি অপশক্তির উত্থান নতুন কিছু নয়। তারা দেশীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। পরাজিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশি-বিদেশিদের সমন্বয় করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করা এবং জাতীয় পরিবর্তনকে রুখে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীরা সরব হয়ে উঠেছে, তারা শেখ হাসিনার চলার পথ ও জাতীয় অগ্রগতিতে বাধা দিতে চায়। তারা ছোট ইস্যুকে বড় করে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচারের চেষ্টা করছে; অবশ্য এর সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। 

গণমানুষের কাছে এমন বার্তা গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমা কূটনীতিকদের এসব তৎপরতা শুরু হয়; যদিও এমন তৎপরতায় সাময়িক বুদ্বুদ্ তৈরি হয়। তবে এবার সরকার যথেষ্ট সচেতন। অনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে কূটনীতিকদের পক্ষপাতমূলক আচরণ দারুণ দৃষ্টিকটু। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিদেশি কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে অন্য দেশে গিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতে জড়িয়ে পড়া এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে নানা সময়ে।

আমার সংবাদ : সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে পরিবর্তন করা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে সঠিক বার্তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিদেশি মিশনে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের কোনো অদক্ষতা রয়েছে বলে কী আপনার মনে হয়।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : এটি একটি এসেসমেন্টের বিষয়। কারো ব্যক্তিগত গাফিলতি কাম্য নয়, যেহেতু তাদের কাজের সাথে দেশের ইমেজ জড়িত। এটা পেশাদারিত্বের একটি অংশ এবং নৈতিকভাবে তারা এটা করতে বাধ্য। কূটনৈতিকভাবে যদি কোনো অসংগতি থাকে, তবে তা দূরীভূত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে তা নিরসন করতে বিদেশি মিশনে অবস্থানরত আমাদের কূটনীতিকদের তৎপর হতে হবে। আমাদের মিশনে যারা দায়িত্বে আছেন, এটা তাদের প্রধানতম কাজ। 

আমাদের দেশের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চরিত্রটি সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে বিদেশের মাটিতে। দেশের বিপক্ষে তৃতীয় পক্ষের যে কোনো অপপ্রচার জোরালোভাবে রুখে দিতে তাদের কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে শুধু পশ্চিমা বিশ্বেই নয়, আরব বিশ্বেও আমাদের সরকারের জনকল্যাণের বার্তাগুলো যথাযথ পৌঁছানো হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। 

আমরা বিভিন্ন সময় আরব দেশে গিয়ে দেখেছি, অনেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ওখানে দিচ্ছে। এখানে একটি বিষয়ে প্রশ্ন জাগে, আমরা যথার্থ মানুষদের মাধ্যমে বার্তা দিতে পারছি কি না। দেশে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয় একটি পক্ষ, এটি করে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। পশ্চিমা দেশে আমাদের নিয়ে অনেক বানানো গল্প প্রচার করা হয়, যা মূলত আমাদের দেশে কখনো ঘটে না। দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যখন বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে, তখন একটি ঘটনাকে উপজীব্য করে আর ১০টি ঘটনা বানানো হয়। ‘স্টোরি টেলার’রাই এসব করে বেড়াচ্ছে।

আমার সংবাদ : দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা চলতে থাকলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর এর কতটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : আমি আশাবাদী মানুষ। আমার কখনো এমন কিছু মনে হয় না। রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবে। এটা আলোচনায় থাকবে, কথার মধ্যে থাকবে। কিন্তু ঘটনার জন্ম দিয়ে মানুষের জান-মাল বিনষ্ট হবে— এটা আমার কাছে কোনোক্রমেই ভালো বলে মনে হয় না। এ বিষয়ে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের অগ্নিসন্ত্রাস-বোমাবাজির তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। ২০০১-০৩ পর্যন্ত সময়গুলো আমাদের সবার জানা আছে— যা বলতে গেলে পাক হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার মতোই ছিল। 

এখন গণসচেতনতাবোধ তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন অনেক সতর্ক। এখন তারা অসত্য ও অপতৎপরতা বেশিদিন গ্রহণ করে না। আমার মনে হয় না সামনে দেশে কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি আর হবে। সবারই শুভবুদ্ধির জাগরণ ঘটেছে। মানুষ এখন ভালো থাকতে চায়। এখন পরীক্ষা পেছানোর কথা কেউ বলে না। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য তারা এখন আগে পরীক্ষা দেয়ার জন্য উপাচার্যের কাছে চলে আসে।

আমার সংবাদ :  শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট পর্যাপ্ত বলে কী মনে করেন।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : শিক্ষার বাজেট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত শিক্ষার জন্য যে বাজেট দিয়েছিলেন, আমরা এখনো সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। সমগ্র বাজেটের শতকরা হার নিম্নে। জিডিপির শতকরা হার— সেটিও নিম্নে। যা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেই। শিক্ষার ক্ষেত্রে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের শতকরা ২০ ভাগ থাকার কথা এবং জিডিপি থাকার কথা শতকরা পাঁচ ভাগ, যেটা ইউনেস্কো বলেছে।

কিন্তু এর ধারেকাছেও আমরা নেই। বলতে গেলে আমরা অর্ধেকে আছি। এটা আবার ওঠানামাও করে। জিডিপির হিসাবে আছে দুই বা এর নিচে। এটা কোনোক্রমে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষার নিম্নমুখী ধারা কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে যদি আমরা গুরুত্ব না দিই, তাহলে অন্যান্য যেসব অর্জন হয়েছে, তা টেকসই হবে না— এটা এক দারুণ সত্য।

আমার সংবাদ : আমাদের গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেন নেই স্যার।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠানের আরও দক্ষতা ও চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। গবেষণায় প্রযুক্তিগত, অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত অর্থের সংযোগ থাকতে হবে। শুধু অক্সফোর্ড-ক্যামব্র্রিজের উদাহরণ টানলেই হবে না। বাজেটে জিডিপির হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেই। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে আমরা পিছিয়ে যাব। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ও গবেষণারত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছি।

বিষয়টিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এমন উদ্যোগের সাথে একটা অনুশাসন দিয়েছেন। এটাসহ প্রস্তাবটি আমরা একটি মন্ত্রণালয়ে দেব। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে উদ্যোগটি হাঁটতে শুরু করবে। সময় সময় আমরা পাশ্চাত্যের যেসব নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দিই, তাদের সরকারগুলো কিন্তু গবেষণার সময় আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়ায়। অগ্রিম ক্রয়াদেশ দিয়ে তাদের বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। সে হিসেবে আমাদের দেশেও বড় গবেষণার পেছনে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্য গবেষণার ফল তাৎক্ষণিক পাওয়া যায় না। ব্যর্থ হলে বারবার শুরু করতে হবে।

আমার সংবাদ : শিক্ষকদের একটি অংশ প্ল্যাগারিজমে যুক্ত হচ্ছে— এর সমাধান কী

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : অন্যের লেখা নিজের বলে দাবি করা চৌর্যবৃত্তি। শুধু শিক্ষকদের জন্যই নয়, যে কোনো গবেষণা ও লেখনীর জন্য চৌর্যবৃত্তি একটি অপরাধমূলক কাজ। অবশ্য অন্যের লেখা থেকে কিছু নেয়ার কতগুলো বিধান আছে। এটা শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। এক সময় এটি পরখ করার কোনো সফটওয়্যার ছিল না। এখন সফটওয়্যারটি আবিষ্কারের ফলে এটা চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে। শুধু চৌর্যবৃত্তি ধরা নয়, এটি গবেষণার কাজেও ব্যবহার হয়। সৌর্যবৃত্তি একটি অপরাধ, এর জন্য শাস্তিরও ব্যবস্থা রয়েছে। আবার এটি শিক্ষকদের জন্য আরও বড় অপরাধ। অবশ্য এখন আমরা কিছু নিয়মনীতি করেছি। শিগগিরই কিছু নীতিমালা প্রণীত হবে, যা সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্য দিয়েই আসবে।

আমার সংবাদ : শিক্ষক রাজনীতি কীভাবে দেখছেন। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়ে কি না।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান : এসব একটি আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রাজনৈতিক উৎপত্তি ঘটেছিল, এটি একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়। রাজনীতি, সমাজ-সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবেই। এটা ব্যতিক্রমী একটি বৈশিষ্ট্য। আমাদের এই বৈশিষ্ট্যের সাথে গবেষণা ও উদ্ভাবন যুক্ত করতে হবে। একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের বিষয়গুলো এখানে যুক্ত হয়েছিল। রাজনৈতিক চর্চা ও রাজনৈতিকমনস্ক করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা— এটাও একটি কাজ। 

একটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন সামাজিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম, তখন সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় একজন সুশীল ও গ্র্যাজুয়েট তৈরি করবে; তার পাশাপাশি সেই মানুষের মধ্যে যদি সমাজ-সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এগুলো তার মধ্যে না থাকে, তাহলে এটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হলো না। এটা সমাজের রূপান্তর ঘটায়। তবে গবেষণা ও উদ্ভাবন না থাকলে আমরা পিছিয়ে যাব। সমাজ-সংস্কৃতি, মূল্যবোধে বিশিষ্ট হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি মানের দিক থেকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হবে।

Link copied!