ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য

নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

তানজিদ সরওয়ার

তানজিদ সরওয়ার

নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১২:২২ এএম

নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
  • সংযোগ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহকসেবায় নির্ভরযোগ্যতা গড়ে তুলছে বিআরইবি

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) দেশের গ্রামীণ জনগণের কাছে নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বপ্ন ‘গ্রামে পৌঁছাবে বিদ্যুৎ, আলোকিত হবে বাংলাদেশ’। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার অন্যতম বৃহৎ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। যার আওতায় বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম এবং সদস্য (প্রশাসন) মো. আহসানুর রহমান হাসিবের নেতৃত্বে সংস্থাটি গ্রামীণ বিদ্যুৎসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তাদের দূরদর্শী দিকনির্দেশনা ও গতিশীল নেতৃত্বে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে। চেয়ারম্যান ও প্রশাসন সদস্যের সমন্বিত তত্ত্বাবধানে বিআরইবি-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন গ্রামীণ জনজীবনে নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে। নতুন সংযোগ প্রদান, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবা কার্যক্রম এখন আরও দ্রুত ও দক্ষভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড শুধু একটি সেবা সংস্থা নয়, বরং গ্রামীণ উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। ‘ঘরে ঘরে আলো, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি’- এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিআরইবি কর্মকর্তারা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে দেশের প্রতিটি গ্রাম জ্বলে ওঠে উন্নয়নের আলোকধারায়।

বিআরইবি’র মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় টেকসই, সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাদের কার্যক্রম শুধু বিদ্যুৎ বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের মানোন্নয়নেও এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।
মূল কাজ ও দায়িত্ব

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কার্যক্রম কয়েকটি প্রধান খাতে বিভক্ত বিদ্যুৎ বিতরণ, সংযোগ প্রদান, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রাহক পরিষেবা এবং বিল সংগ্রহ।

বিআরইবি দেশের মোট গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি জেলার অধীনে গঠিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো এই বিতরণ কাজ পরিচালনা করে থাকে। এসব সমিতির মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলের প্রায় শতভাগ এলাকায় এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে।

নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রিড সংযোগ, স্মার্ট মিটারিং ও লোড ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করেছে। বিআরইবি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখেরও বেশি গ্রাহক এই সেবার আওতায় রয়েছে। স্মার্ট মিটার বাস্তবায়ন সাত লাখ, আর প্রিপেইড মিটার ১১ লাখের মতো। প্রতিমাসে নতুন গ্রাহক বাড়ছে ৫০ হাজার, পল্লী বিদ্যুতায়নের সার্ভিস পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন। পল্লী গ্রামে আজ ঘরে ঘরে আলো সব অবদানই পল্লী বিদ্যুতায়নের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

গ্রামীণ অঞ্চলে নতুন গ্রাহকদের মিটার সংযোগ দেয়া বিআরইবি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কৃষি পাম্প, ক্ষুদ্র শিল্প, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সংযোগ দেয়া হয়। প্রতিটি সমিতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংযোগ সম্পন্ন করার জন্য আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে বিআরইবি লক্ষাধিক নতুন সংযোগ প্রদান করেছে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে উঠছে এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলোয় রাতের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিআরইবি কর্তৃক নির্মিত সব বিদ্যুৎ লাইন, উপকেন্দ্র, ট্রান্সফর্মার এবং সাবস্টেশনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা দুর্ঘটনা ঘটলে জরুরি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এছাড়া, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে লাইন ও যন্ত্রপাতি পরিদর্শনের মাধ্যমে আগাম ত্রুটি শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি সমিতিতে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর জরুরি সেবা টিম (Fault Management Team) কাজ করে যাচ্ছে, যাতে গ্রাহকরা অপ্রত্যাশিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার না হন।

গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা বিআরইবি’র অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রতিটি সমিতিতে স্থাপন করা হয়েছে গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, যেখানে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকরা ফোন, এসএমএস বা অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। স্মার্ট মিটার রিডিং ব্যবস্থা চালুর ফলে গ্রাহকরা এখন বিল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য অনলাইনে দেখতে পারেন। বিআরইবি গ্রাহকসেবাকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে REB Customer Portal Ges REB Mobile App চালু করেছে।

গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করে তা যথাসময়ে বোর্ডের কেন্দ্রীয় হিসাবে জমা দেয়া হয়।

বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাহকের বিল কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় এবং বিল পরিশোধ করা যায় ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে। বিআরইবি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যাতে বিল নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে এবং বিল পরিশোধের যথাযথ রসিদ প্রদান করা হয়।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাজের মূল চালিকাশক্তি হলো এর কর্মীরা, যারা মাঠপর্যায়ে দিনরাত পরিশ্রম করে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখছেন। বিলিং সহকারী : কম্পিউটার ব্যবহার করে মিটার রিডিং অনুযায়ী গ্রাহকদের বিল তৈরি, প্রিন্ট ও রেকর্ড সংরক্ষণ করেন। মিটার রিডার-কাম-মেসেঞ্জার : তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং সংগ্রহ করেন এবং বিল গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেন। প্রযুক্তিগত কর্মী ও প্রকৌশলীরা : লাইন সংযোগ, ট্রান্সফর্মার রক্ষণাবেক্ষণ ও লোড ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান করেন। অফিস সহকারী ও হিসাব কর্মকর্তা : আর্থিক লেনদেন, রেকর্ড সংরক্ষণ, নিরীক্ষা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা : তারা পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি হালনাগাদ এবং নীতি-নির্ধারণমূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

এছাড়া বোর্ডে বর্তমানে নারী কর্মকর্তারাও নেতৃত্বের আসনে রয়েছেন, যারা প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বিআরইবি শুধু প্রচলিত বিদ্যুৎ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা সোলার হোম সিস্টেম, মিনি-গ্রিড এবং নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যেখানে জাতীয় গ্রিড পৌঁছেনি, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরে ঘরে আলো পৌঁছে দিচ্ছে বোর্ড।

এছাড়া, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এখন অনেক এলাকায় স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে, যার ফলে গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো- ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ বাস্তবায়ন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের  ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’ রূপকল্পের অংশ হিসেবে বিআরইবি তাদের সব কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে— স্মার্ট গ্রিড ও স্মার্ট মিটারিং সিস্টেম সমপ্রসারণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জিরো-আউটেজ জোন বাস্তবায়ন।

গ্রামীণ জনগণের মতে, বিআরইবি’র কার্যক্রম তাদের জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

গ্রামের রাত এখন অন্ধকার নয় ঘরে আলো জ্বলে, কারখানা চলে, শিক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করে, কৃষকরা সেচ দেয়, চিকিৎসকরা ক্লিনিক চালান। বিদ্যুৎ শুধু আলো দেয়নি বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, দর্জি, মেশিনচালিত কলকারখানা- সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের অবদান দৃশ্যমান। এখন অনেক গ্রামীণ নারীও ঘরে বসে ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মনির্ভর হচ্ছেন, যার পেছনে বিদ্যুৎই প্রধান সহায়ক শক্তি।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) আজ দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় এক অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এখন শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশের কাতারে। গ্রামে বিদ্যুৎ, উন্নয়নে গতি- এই স্লোগান শুধু একটি বাক্য নয়, এটি এখন বাস্তবতার প্রতীক। বিআরইবি’র কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে- উন্নয়নের আলো সত্যিই ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামে, প্রত্যেক ঘরে, প্রত্যেক হৃদয়ে।

Link copied!