ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টানা ভূমিকম্পে উদ্বেগ: বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বাংলাদেশ

তানজিদ সরওয়ার

তানজিদ সরওয়ার

নভেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:৫৬ পিএম

টানা ভূমিকম্পে উদ্বেগ: বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পরপর দুই দিনের ভূমিকম্পে যেন নতুন করে নিজের দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। 

শুক্রবার সারা দেশের মানুষ যে শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছিল, সেটির কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী; মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন, আহত হন শত শত মানুষ। ভয়াবহ আতঙ্কের সেই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই শনিবার আবারও একই এলাকায় ভূমিকম্প।

সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে নরসিংদীর পলাশে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করেছে সিসমিক অবজারভেটরি।

এই টানা কম্পন শুধু ক্ষণিক ভয়ের বিষয় নয় এটি ভূগর্ভের সক্রিয় চলাচল এবং সম্ভাব্য বড় বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ভূমিকম্প আগামী দিনগুলোতেও অনুভূত হতে পারে, কারণ নরসিংদী-ঢাকা অঞ্চলটি বর্তমানে অস্বাভাবিক ভূকম্পন কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে শুধু ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেনি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভবন হেলে পড়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লেগেছে, রাস্তায় বড় আকারের ফাটল দেখা দিয়েছে। যে মাটি নীরবে নিভৃতে বহুদিন চাপ ধরে রেখেছিল, সেটি যেন এক লাফে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। শনিবার আবার সেই একই ভৌগোলিক এলাকায় কম্পন হওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে একটি 'ফল্ট লাইনের সক্রিয়তা যা বড় ভূমিকম্পের অন্যতম পূর্ববার্তা।

ঢাকার সূত্রাপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুরসহ বহু এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে।

অনেকেই বলেন, আরেকটু বড় ধাক্কা হলে কী হতো ভাবতেই ভয় লাগছে। জনগণের এই আশঙ্কাই এখন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান কাঠামো প্রকৌশলীর বক্তব্য আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 

তিনি বলেছেন বাংলাদেশে দেড়লাখ নয় অল্পকিছু ভবন ছাড়া প্রায় সবকটি ভবনই ভয়াবহ রকম ঝুঁকিপূর্ণ। বড় ভূমিকম্প হলে যারা বেঁচেও যাবে, তারা থাকতে পারবে না। কারণ আগুন, পানি ও পয়ঃপ্রণালির যে অবস্থা এগুলো পরিচালনা করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তার ব্যাখ্যায় উঠে আসে কিছু বাস্তবতা, ডাউকি ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইনে বসে বাংলাদেশ, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ পূর্বাঞ্চল একাধিক প্রধান ফল্ট লাইনের ওপর। প্রতিটি ফল্টের আলাদা গতি আছে; কোনোটি ধীরে, কোনোটি দ্রুত সরে যাচ্ছে। নিয়মিত ক্ষুদ্র কম্পনগুলোই বড় ভূমিকম্পের চাপ তৈরি করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন করে কিছু ভবন খুব শক্ত ডিজাইন করা হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে প্রায় সব ভবনই নরম মাটির ওপর দাঁড়ানো টিনের ঘরের মতো।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ভবন ধসে প্রাণহানি ঘটবে, তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি আগুন থেকে হবে। গ্যাসের লাইন, কেমিক্যাল গুদাম, বাজার এলাকার ঘিঞ্জি পরিবেশ সব মিলিয়ে 'আগুনের তাণ্ডব' ঘটতে পারে।

রাস্তাঘাট মুহূর্তে অচল হয়ে যাবে; উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবেন না।

ভূমিকম্প বিষয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে অগোছালো ও দুর্যোগ–অসহনীয় কয়েকটি শহরের একটি। কারণগুলো স্পষ্ট, ১. ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়তে পারে (সরকারি জরিপ), ২০০৯ সালে জাইকা সিডিএমপির জরিপে বলা হয়েছিল ঢাকায় যদি ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয় ৭২ হাজার ভবন ধসে যাবে, ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ৭ কোটি টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ সৃষ্টি হবে।

একটি আগুন বঙ্গবাজার বা সিদ্দিকবাজার নেভাতে হিমশিম খায় দমকল বাহিনী। অথচ বড় ভূমিকম্প হলে ৫০০ আগুন একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারে, রাস্তা ব্লক হয়ে যাবে, পানির লাইন ভেঙে যেতে পারে, উদ্ধার সরঞ্জাম থাকবে রাস্তামুখী হতেই অক্ষম।

প্ল্যান পাস ছাড়াই বহু ভবন, অগ্নিনিরাপত্তাহীন মার্কেট, রাসায়নিক গুদাম, কোনো এলাকায় ফায়ার হাইড্রেন্ট নেই, অনেক স্থাপনায় জরুরি সিঁড়িও নেই।

এই বাস্তবতাকে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুর্যোগকে আমন্ত্রণ জানানোর এক অব্যর্থ রেসিপি। ভূমিকম্প থেকে বাঁচার উপায় ব্যক্তিগত প্রস্তুতি এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দেশের মানুষকে নিজের সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, একটি শহর ভঙ্গুর হয়ে উঠলে তার দায় ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার ফল। অবৈধ ভবন বন্ধে কঠোর উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময়ে 'মানবসৃষ্ট মহাদুর্যোগ' ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার করে বলেছেন, ভূমিকম্প প্রতিদিন হচ্ছে। কিন্তু বড় ভূমিকম্প কখন হবে তা কেউ বলতে পারবে না। সময় আছে, তবে অতি অল্প।

তাদের মতে সরকারের করণীয়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ, অবৈধ নির্মাণে শূন্য সহনশীলতা, জরুরি উদ্ধার পথ নিশ্চিত করা, রাসায়নিক গুদাম সরানো, ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকতা ও প্রশিক্ষণে সমৃদ্ধ করা।

নরসিংদীতে টানা দুই দিনের ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য একটি সরাসরি বার্তা প্রকৃতি আর সময় দিচ্ছে না; এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের রেড অ্যালার্ট। বড় বিপর্যয় এলে আমরা চাইলে চেষ্টা করেও সামাল দিতে পারব না। তাই বিপর্যয় শুরু হওয়ার আগেই সমাধানে যেতে হবে।

ঢাকা শহর যেমন আজ দাঁড়িয়ে আছে অতি ঘনবসতি, নিয়মহীন নির্মাণ, অগ্নিজনিত ঝুঁকি এভাবে যে কোনো মধ্য মাত্রার ভূমিকম্পই বড় দুর্যোগে রূপ নিতে পারে।

ইএইচ

Link copied!