ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন চ্যালেঞ্জ

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ১২:০২ এএম

ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন চ্যালেঞ্জ

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এক যুগ আগে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে একক কণ্ঠে দাঁড়াত। তবে ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের একক পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রবণতা এই ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ইউরোপীয় নেতারা ইরান সংঘাতের ক্ষেত্রে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নেয়নি এবং নীরব অবস্থানকে প্রাধান্য দিয়েছে। জার্মানির রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্ক ওয়ালটার স্টাইনমায়ার এবং ফ্রেডরিখ মার্সসহ অন্যান্য নেতারা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব এবং কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিয়ে সরাসরি মিলিটারী সমর্থন না দেয়ার বার্তা দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর মতো পদক্ষেপ ইউরোপে আস্থাহীনতা বাড়িয়েছে। ফলে ইউরোপ নিরাপত্তা, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয় করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরনো ঘনিষ্ঠতা এবং আনুগত্যের সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই নতুন বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভূ-দৃশ্যেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউরোপের নীরবতার কারণ : ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা যখন তীব্র হচ্ছিল, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা ছিল পুরনো মিত্ররা পাশে থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ন্যাটোর পতাকার তলে থাকা দেশগুলো হঠাৎ করে নিজেদের অবস্থান নতুন করে পরিমাপ করতে শুরু করেছে। ফিনল্যান্ড: প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ঘোষণা করেছেন, ‘ইরান যুদ্ধ আমাদের নয়।’

জার্মানি : রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্ক ওয়ালটার স্টাইনমায়ার বলেন, মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক ভুল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির নীতিগত দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এই মন্তব্য জার্মান রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো জার্মান নেতা এত সরাসরি মার্কিন নীতি সমালোচনা করেননি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধে জার্মানি অংশ নিচ্ছে না; তবে ইউক্রেন যুদ্ধে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ইউক্রেনের জন্য সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

নরওয়ে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্পেন বার্থ আইডে বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধ সবার জন্যই ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসন জরুরি।’

ইউরোপের অন্যান্য প্রতিক্রিয়া

ডেনমার্ক : মার্চের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনা প্রধান ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তারা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সহযোগিতা করবে না।

ইতালি ও স্পেন : ইউরোপীয় কূটনীতির মধ্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ না নেয়ার প্রতিশ্রুতি।

ফ্রান্স : প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে হবে।’ তিনি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

ন্যাটো এবং ট্রাম্পের উত্তেজনা : ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে মন্তব্য করেছেন, ‘ইরান যুদ্ধ আমাদের নয়, অন্তত সরাসরি নয়।’ এর পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে ন্যাটো সমালোচনা করেন। তিনি যুদ্ধকে ‘লয়্যালটি টেস্ট’ বা আনুগত্যের পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইউরোপ ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি তিনি ন্যাটোকে ‘স্টুপিড’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে একাই চলতে পারে। এ মন্তব্যে দেখা যায়, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থাহীনতা তীব্র। ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত ও কঠোর কূটনীতি ইউরোপকে নীরব প্রতিরোধে প্ররোচিত করেছে।

ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ দাবি ট্রাম্পের : ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে কার্যত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তন ইতোমধ্যেই ঘটেছে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে বিস্ফোরক মন্তব্য : মার্কিন প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইরানের পূর্ববর্তী সরকার প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিই কার্যত একটি নতুন ক্ষমতা কাঠামোর জন্ম দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কারণ যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের অনেকেই আর নেই। নতুন যারা এসেছে, তারাও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। এখন একেবারে ভিন্ন ধরনের লোকজন পরিস্থিতি সামলাচ্ছে।’ তার মতে, এই পরিবর্তনই ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর বাস্তব রূপ, যা প্রচলিত অর্থে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই ঘটে গেছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে যারা ইরানে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে, তারা আগের তুলনায় ‘বেশ যুক্তিসঙ্গত’ আচরণ করছে। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে কোনো গোষ্ঠী বা নেতৃত্বের নাম উল্লেখ করেননি। তার মতে, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে একটি নতুন চুক্তি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি অনিশ্চয়তার কথাও স্বীকার করেন। ‘আমার মনে হয় আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করব, তবে না-ও হতে পারে,’ বলেন ট্রাম্প। ‘ইরানের ব্যাপারে কিছুই নিশ্চিত নয়। কখনো আমরা আলোচনা করি, আবার কখনো হামলাও করতে হয়।’ এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপ বজায় রাখার নীতি অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ এবং ‘বাস্তবতার অতিরঞ্জন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ইরানে ক্ষমতার কাঠামো এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা এখনো বিদ্যমান। অনেকেই মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও হতে পারে, যেখানে তিনি নিজের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তুলে ধরতে চাইছেন।

ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া : যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে এই ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের ‘রেজিম চেঞ্জ’ নীতির বিরোধিতা করে এসেছে এবং এটিকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে।

কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা : বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে। একদিকে ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন। এই দ্বৈত অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে।

ইরানের তেল দখলে আগ্রহ ট্রাম্পের : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরানের তেলশিল্প নিয়ন্ত্রণ নেয়াই হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ঋরহধহপরধষ ঞরসবং-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দেয়।

তেল নিয়ন্ত্রণই ‘অগ্রাধিকার’ : সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ইরানের তেল দখল করার বিষয়টি তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তার ভাষায়, ‘আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো ইরানের তেল দখল করা।’ এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টানলেন ট্রাম্প : ট্রাম্প তার পরিকল্পনার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির তুলনা করেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দেশটির তেলশিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝাতে চান, প্রয়োজনে একই ধরনের কৌশল ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে।

সামরিক উপস্থিতি জোরদার : মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। চবহঃধমড়হ প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা ইতোমধ্যে অঞ্চলে পৌঁছেছে। এছাড়া ৮২হফ অরৎনড়ৎহব উরারংরড়হ-এর সেনাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই বাহিনী মূলত দ্রুত মোতায়েন ও দখল অভিযানে দক্ষ।

তেলের বাজারে অস্থিরতা : সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ বা ঝুঁকির মধ্যে পড়লে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

সর্বোপরি, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দূরত্ব দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক বার্তা দিচ্ছে- রাজনৈতিক সহযোগিতা সম্ভব, কিন্তু নিজের স্বার্থ ও নীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

Link copied!