ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

শহীদ আবু সাঈদ হত্যার রায়

টিএম হুদা

টিএম হুদা

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১২:১৬ এএম

শহীদ আবু সাঈদ হত্যার রায়

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক অবিনাশী নাম আবু সাঈদ। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর বুক চিতিয়ে পুলিশের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্যটি ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার অন্যতম অনুঘটক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রায়ের মূল ফলাফল, একনজরে দণ্ডপ্রাপ্তরা : ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিদের তিনটি প্রধান স্তরে ভাগ করে সাজা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তিনজনকে। তারা হলেন সাবেক এসি আরিফুজ্জামান, পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও এসআই বিভূতিভূষণ। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে ২৫ জনকে। এর মধ্যে সাবেক ভিসি, প্রক্টর, শিক্ষক, ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

পুলিশের দায়বদ্ধতা, সর্বোচ্চ দণ্ড ও যাবজ্জীবন : আবু সাঈদকে সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং সেই ঘটনার নির্দেশদাতাদের মধ্যে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কঠোর সাজা দেয়া হয়েছে।

ক. মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য : ঘটনার দিন সরাসরি গুলি চালানোর দায়ে সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নিরপরাধ ও নিরস্ত্র এক শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন।

খ. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড : হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উসকানি ও তদারকির দায়ে পুলিশের তিন সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) বিভূতিভূষণ রায়। উল্লেখ্য, এই তিনজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা, ভিসি ও প্রক্টরের সাজা : আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। ট্রাইব্যুনাল তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কঠোর সাজা প্রদান করেছেন।

উপাচার্য ও শিক্ষকদের সাজা:  সাবেক ভিসি মো. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পলাতক এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে চরম অবহেলা ও পুলিশি অ্যাকশন উসকে দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

শিক্ষকবৃন্দ: গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

প্রক্টর ও কর্মকর্তা-কর্মচারী: সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছর এবং মো. হাফিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে তিন বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের দণ্ড, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার : আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের দণ্ড দেয়া হয়েছে।

পোমেল বড়ুয়া (সাবেক সভাপতি): তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মাসুদুল হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক): তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অন্যান্য নেতা: সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি ও আখতার হোসেনসহ বাকি ছয়জন ছাত্রলীগ নেতাকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক।

পুলিশ কমিশনার ও অন্যদের দণ্ড : রংপুর মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও আদালত নমনীয়তা দেখাননি। সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান: তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাবেক ডিসি ও এডিসি: মো. আবু মারুফ হোসেন এবং শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছর করে সাজা দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসক: ময়নাতদন্ত বা চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা কারচুপির অভিযোগে পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বিশেষ খালাস ও মুক্তির আদেশ : এই মামলায় একমাত্র ব্যতিক্রমী রায় দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ারপারভেজের ক্ষেত্রে। আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেও তার দীর্ঘ হাজতবাস বিবেচনা করে সাজা পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করেন। অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব : বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী তার রায়ে উল্লেখ করেন, আবু সাঈদ শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের প্রতীক। তার হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করে যে, পুলিশ কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই তাকে গুলি করেছে। এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রযন্ত্রের যে কোনো বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

বিটিভিতে সরাসরি সমপ্রচারিত এই রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যদিও অধিকাংশ আসামি পলাতক, তবে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল : জুলাই গণআন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন। রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেছেন, যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন ‘অমানুষে’ পরিণত হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের শুরুতে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন।’ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।

আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি আসামিপক্ষের আইনজীবী : রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনি বলেন, আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। তার ডেথবডিতেও (মরদেহ) কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। আইনজীবী দোলন জানান, আসামিপক্ষের পক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিতভাবে খালাস না পাওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।

সরকারি চাকরি করি, আমি হুকুমের গোলাম দণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই : রংপুরে আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায় ঘোষণার পর এএসআই আমির হোসেন চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমি পুলিশের চাকরি করি, হুকুমের গোলাম। আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি এ রায় মানি না। এ সময় আমির হোসেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বলেন, আমাকে যেভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি তাই করেছি। আর এখন কেন আমাকেই ফাঁসানো হয়েছে।

রায় কার্যকর হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে শহীদ আবু সাঈদের মা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের রায় হয়েছে। কিন্তু এই রায় কার্যকর হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। এদিকে, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু রায়হান বলেন, আমার ভাইকে হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত সবার ফাঁসি কার্যকর চাই। তাহলে ভাই হত্যার বিচার হবে।

রায়ে অসন্তোষ, সব আসামির ফাঁসি চান আবু সাঈদের বাবা : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা আদেশ দিয়েছে সেই বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই তো বাঁচি গেলো।’ এ সময় আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে যারা দায়ী তাদের সবার ফাঁসি দাবি করেন তিনি।

আবু সাঈদের বাবা বলেন, ‘ছেলে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ রায়ে শাস্তির পরিমাণ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই আবু সাঈদের ছোট বোন : আবু সাঈদের ছোট বোন সুমি খাতুন বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার যে রায় দেয়া হয়েছে তাতে আমরা খুশি। আকাঙ্ক্ষিত ছিলাম এ রায়ের জন্য। এ রায়ে যতটুকু পরিমাণ শাস্তি দেয়া হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। এখানে শিক্ষকদের আরও বেশি শাস্তি আশা করেছিলাম। এ রায়ে আমরা পরিমাণমতো সন্তুষ্ট নই।

রায়ে লঘু শাস্তি দেয়া হয়েছে সহযোদ্ধা : আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় পেয়েছি। কিন্তু এই রায়ে গুরুদণ্ডে আসলে লঘু শাস্তি দেয়া হয়েছে; আমরা আদালতের কাছে রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানাব। সেই সঙ্গে যাদের শাস্তি হয়েছে, তাদের দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।? আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগের সভাপতি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, অথচ তাকে খুবই লঘু শাস্তি দেয়া হয়েছে।’

আরেক সহযোদ্ধা আহমাদুল হক আলবীর বলেন, এ রায় আমাদের প্রাপ্তির জায়গা হলো- বিচারটা হয়েছে কিন্তু আমাদের হতাশার জায়গা দেখেন, মাত্র দুইজন পুলিশের শাস্তি হয়েছে কিন্তু এখানে অনেক পুলিশ সদস্য জড়িত ছিল। এছাড়া অনেক ছাত্রলীগ সদস্য আবু সাঈদ ভাইকে এবং ছাত্রদের হামলা করেছে কিন্তু সেই অনুযায়ী আমরা প্রত্যাশিত রায়টি পাইনি।  সর্বোপরি আমরা আদালতে দাবি জানাই- এ রায়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।

হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষীর প্রতিক্রিয়া : আবু সাঈদ হত্যা মামলার  অন্যতম সাক্ষী আরমান হোসেন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম শাস্তি আরও বেশি হবে। আমরা এ ব্যাপারে হতাশ। প্রত্যাশা অনুযায়ী রায়  পায়নি। আমরা আশা করব বিজ্ঞ আদালত আমলে নিবেন ও রায় পুনর্বিবেচনা করবেন।

রায় ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ বেরোবি ভিসির : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

ভিসি বলেন, এ রায়ে যে সব ব্যক্তিকে বিভিন্ন ধারায় কাউকে মৃত্যুদণ্ড আবার কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও অনেকেই লঘুদণ্ড প্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের রায় বিবেচনা করার বিষয়টি নিয়ে তারা মতামত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি রংপুরে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম না। যার কারণে শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠীরা, ঘটনার সাক্ষীরা কিংবা যারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছেন তাদের সন্তুষ্টি মানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি, আবার শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সন্তুষ্টি মানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি।

Link copied!