মো. খোকন, আশুগঞ্জ
আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ নদী ভাঙন এবং মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আশুগঞ্জ নৌবন্দর এলাকা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আশুগঞ্জ বন্দর এলাকা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী মেঘনা নদীতে দিনরাত ড্রেজার বসিয়ে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর তলদেশ ও তীর একসাথে ধ্বসে পড়ছে, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
জানা গেছে, ২০ আগস্ট ঢাকা-সিলেট করিডোর মহাসড়কের বালুর চাহিদার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিগো মীর আক্তার এর প্রতিনিধি ‘এ-২ বি কর্পোরেশন’-কে তিন মাসের জন্য মেঘনা নদীর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছের এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল নিশানা দিয়ে সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বালু উত্তোলনকারীরা লাল নিশানা উড়িয়ে ড্রেজার বসিয়ে নদীর পাড়ে পর্যন্ত বালু উত্তোলন করছে। এতে আশুগঞ্জ বন্দর, কৃষিজমি ও বসতভিটাসহ তীরবর্তী এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
চরসোনারামপুর গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বসবাস করছে। নদীর তীরবর্তী এ এলাকায় রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—২৩০ কেভি বিদ্যুতের রিভার ক্রসিং টাওয়ার। বালু উত্তোলনের কারণে টাওয়ারের নিচের মাটি সরছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থা চলতে থাকলে জাতীয় গ্রিডও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো বলছে, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড ও আশুগঞ্জ শিল্পাঞ্চল মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ২০২২ সালে তৎকালীন ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, চরসোনারামপুর ও আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলন চললে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর এলাকা, বসতঘর ও কৃষিজমি নদী ভাঙনের শিকার হবে। তারপরও সম্প্রতি তিন মাসের অনুমতি দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আশুগঞ্জ জেনারেল মার্সেন্ট অ্যান্ড কমিশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, “এ অবস্থা চলতে থাকলে তীরবর্তী এলাকা ও আশুগঞ্জ বন্দর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়বে। আমরা ইজারা বাতিলের আবেদন করেছি, প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হব।”
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের জন্য বালুর চাহিদা থাকায় তিন মাসের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সীমানা অতিক্রম বা চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, মীর আক্তারের প্রতিনিধি কামাল আহমেদ জয় দাবি করেছেন, তারা ইজারার শর্ত মেনে বালু উত্তোলন করছেন, তবে ভৈরবের কিছু প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, সরকারি প্রতিবেদন ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়ক, শিল্পাঞ্চল ও হাজারো মানুষের বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে, যা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
ইএইচ