মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের মাত্র এক মাস আগেও হামিম (৮) ছিল মা-বাবার আদরের ছায়াতলে। কিন্তু আজ হামিম বড্ড একা। বাবাকে হারানোর এক মাস পর মাকে হারাতে হবে, সেটা সে জানত না। এখন ওর অসহায় চাহনি দেখে যে কারো চোখে পানি আসতে বাধ্য।
"আমি এখন যাব কোথায়, থাকব কোথায়, খাব কোথায় গো" এমনি আকুতি আর আহাজারিতে ভাসছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রাম।
গত (১০ নভেম্বর) মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে বাবা চলে যায়। ঠিক এক মাস পর ১০ ডিসেম্বর মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে হামিম (৮)।
তার ভরণ-পোষণের জন্য একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন ওদের বাবা দিনমজুর আনসার আলী। সারাদিন কাজ করে যে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। সেই টাকায় সদাই করে এক ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে পরিবার চলতো। কিন্তু সন্তানকে এতিম করে স্ত্রী আলিমা আক্তারসহ তিনি এখন কবরে।
সদ্য এতিম হওয়া হামিমের ওপর অধিক শোকের প্রভাবটা হয়তো একটু হলেও পড়েছে। ফলে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে সে আমার সংবাদের সঙ্গে কথা বললেও পরবর্তীতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হামিম এখনো বিষয়টি হয়তো ভালো করে বোঝেনি। তবুও ওর চাহনিতে বেদনার চাপ। ও একদিন আগেও নাকি খুব চঞ্চল ছিল, খেলাধুলা করছিল। কিন্তু আজ নিশ্চুপ।
একে একে গ্রামের প্রতিবেশীরা এসে হামিমকে সান্ত্বনার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সেরাজুল ইসলাম বিপুল নামে গ্রামের এক ব্যবসায়ী বললেন, "ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কেউ একজন নিতে হবে।" গ্রামের সবাই এসে বললেন, আমরা তোমাদেরই ভাই, চাচা, মামা। ওদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন সবাই।
কিন্তু সাময়িক সহযোগিতা নিয়ে ওদের জীবন চলবে কিভাবে? জানতে চাওয়া হয় ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের কাছে। সেই সঙ্গে বিত্তশালীদেরকে অসহায় ওই এতিমদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ইউএনও তাপস পাল।
ইএইচ