মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ১২:২৫ পিএম
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মাগুরায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সময় বক্তারা বলেন, একাত্তরে বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ দেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে জাতিকে আলোকিত পথ দেখিয়েছে।
রোববার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শহরের নোমানী ময়দানে পুষ্পঅর্পণ শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল একটি মেধাশূন্য বাংলাদেশ তৈরি করা। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ আমাদের আলোকিত পথ দেখায়। তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীরা শুধু একটি সময়ের মানুষ নন, তারা জাতির চেতনার প্রতীক। তাদের অবদান স্মরণ করা মানেই ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বুদ্ধিজীবীদের ত্যাগ সম্পর্কে তরুণ সমাজকে জানাতে নিয়মিত আলোচনা ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধই একটি জাতির প্রকৃত শক্তি।
জেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম ও গভীর ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের চেতনা ধারণ করেই আমাদের দেশ গড়তে হবে। ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি পথ হারায়।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ অনুসরণ করাই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহ শিবলী সাদিক বলেন, বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির, সহকারী পরিচালক ডা. সৌমেন চৌধুরী এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান প্রমুখ তাদের বক্তব্যে বলেন, বুদ্ধিজীবীরা মানবকল্যাণ, সত্য ও ন্যায়বোধের পক্ষে আজীবন কাজ করে গেছেন, যা বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শেষে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জেএইচআর