ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিলেটে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গণজোয়ার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

সিলেটে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গণজোয়ার 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার ময়দানে সশরীরে হাজির হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের বিশাল জনসভায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি তার দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক ও জমকালো সূচনা করলেন। সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে একদিনেই সাতটি ভিন্ন স্থানে জনসভা করার এই ম্যারাথন কর্মসূচি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সকাল থেকেই সিলেটের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হতে থাকে ‘ধানের শীষ’ আর ‘তারেক রহমান’-এর স্লোগানে। বেলা ১২টা ২৮ মিনিটে তারেক রহমান সভামঞ্চে পা রাখতেই কয়েক লাখ নেতা-কর্মীর গগনবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম” এবং “ভোট দেব কিসে, ধানের শীষে”- এমন স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। লাল গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে এবং মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন স্থানীয় জনতা।

সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারেক রহমানের আগমনের আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকেই স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। বক্তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারার নির্দেশ দেন।

জনসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির একঝাঁক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন:

যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির
সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ও কলিম উদ্দিন মিলন
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান
শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও আবুল কাহের শামীম
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান

বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের এই সফর কেবল নির্বাচনী প্রচারণা নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক চূড়ান্ত মাইলফলক।

সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে এই যাত্রা সাধারণ কোনো ভ্রমণ নয়; বরং এটি একটি ‘নির্বাচনী রোড মার্চ’। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিনি সংক্ষিপ্ত জনসভা ও পথসভা করবেন। এই সাতটি স্থান হলো:

১. সিলেট: সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ (প্রধান জনসভা)।
২. মৌলভীবাজার: সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ।
৩. হবিগঞ্জ: শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠ।
৪. ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠ।
৫. কিশোরগঞ্জ: ভৈরব স্টেডিয়াম।
৬. নরসিংদী: পৌর পার্ক এলাকা।
৭. নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া সংলগ্ন এলাকা।

এই প্রতিটি স্টপেজে তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপি মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের ভোটারদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সরাসরি প্রার্থীর হাত ধরে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এই কৌশল ভোটারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

সকাল থেকেই সিলেট অভিমুখে মিছিলে মিছিলে সয়লাব হয়ে যায় রাজপথ। সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছোট-বড় ট্রাক, পিকআপ এবং বাসে করে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল ধানের শীষের প্রতিকৃতি এবং তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দলের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এক অভূতপূর্ব ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর মূলত প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে ফেলার কৌশল। একই দিনে সাতটি জনসভা করার সক্ষমতা প্রদর্শন করে বিএনপি এটিই প্রমাণ করতে চাইছে যে, মাঠ পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তি এখনো অটুট। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন জেলাগুলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল সংসদ নির্বাচনই নয়, একই সাথে গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তারেক রহমান তার বক্তব্যে এই গণভোটের গুরুত্ব এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণার ঢেউ কতটুকু রাজধানী পর্যন্ত আছড়ে পড়ে এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিএনপিকে কতটা সাহায্য করে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত। তবে আজকের এই উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, দীর্ঘ সময় পর রাজপথে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

এএন

Link copied!