ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে অবশেষে আশার আলো দেখা দিয়েছে। খুব শীঘ্রই পর্যটন ও অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা পুনরায় স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতীয় ভিসা চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ভিসা চালুর বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা খুব শীঘ্রই আগের মতো ভারতে যাতায়াত করতে পারবেন।’
গত কয়েক মাস ধরে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় চিকিৎসা, ব্যবসা এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘ভিসা প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই চালু হয়, সে লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। এটি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ।
মূলত শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে অনুদান ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ব্যক্তিগত ও সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার পর তিনি স্থানীয় মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। সেখানেই সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ভারতে যাতায়াতের সমস্যা ও ভিসা চালুর বিষয়টি উত্থাপিত হলে তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ ভারতে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য একটি বড় অংশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভিসা সীমিত থাকায় গত কয়েক মাস ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভারতে যেতে ব্যাপক পোহাতে হয়েছে। ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ওইসব ভুক্তভোগী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামা ওবায়েদ ইসলামের এই বক্তব্য কেবল একটি আশ্বাস নয়, বরং এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার একটি প্রয়াস। ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়া মানেই হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ (People-to-People Contact) বৃদ্ধি পাওয়া, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে চিকিৎসা প্রত্যাশীদের জন্য এটি একটি জীবন রক্ষাকারী সংবাদ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর এখন কারিগরি বিষয়গুলো এবং হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ধাপে ধাপে পর্যটন ভিসা চালু করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবসার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
ফরিদপুরের সালথা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের দেওয়া এই বার্তা দেশজুড়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে সরকারের এই দ্রুত তৎপরতা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ।
এএন