ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

উজিরপুরে ডিজেল সংকটে সেচ প্রকল্প বন্ধ, ব্যাহত হতে পারে বোরো-ইরি উৎপাদন

নাজমুল হক মুন্না, উজিরপুর (বরিশাল)

নাজমুল হক মুন্না, উজিরপুর (বরিশাল)

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

উজিরপুরে ডিজেল সংকটে সেচ প্রকল্প বন্ধ, ব্যাহত হতে পারে বোরো-ইরি উৎপাদন

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে বোরো-ইরি ধান উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলচালিত সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে জমিতে সময়মতো পানি দিতে না পারায় ধানের চারা শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরো মৌসুমের ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

উপজেলার মুন্ডপাশা ব্লক ম্যানেজার মো. ইউনুচ হাওলাদার, পূর্ব ধামসর এলাকার আলাউদ্দিন হাওলাদার, কাজিরা গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন এবং ওটরা ইউনিয়নের মশাং গ্রামের মনির খান জানান, “ইরি ধান উৎপাদনের এই সময়টি পানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সেচ না পেলে স্বাভাবিক ফলন পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সময়ে ডিজেল না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং লাভের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাপিল বিশ্বাস জানান, “কৃষকদের জন্য ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে এই সনদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অবৈধ মজুদ রোধ করা যায়।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “উজিরপুরের অধিকাংশ জমি এক ফসলি। এই ইরি মৌসুমেই কৃষকরা বছরের চালের চাহিদা পূরণ করেন। তাই এই সময় সেচ বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় প্রভাব পড়বে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা বলেন, “প্রতিটি ডিজেল পাম্পে প্রাপ্তি সাপেক্ষে কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, স্থানীয় সাকুরা পেট্রোল পাম্প ও সাজু পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় তারা তিন ভাগের এক ভাগ জ্বালানিও পাচ্ছেন না। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি তেল ডিপো বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে কৃষক, পরিবহন খাতসহ জ্বালানিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

সাকুরা পেট্রোল পাম্পের সরকারনিযুক্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “পাম্পগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না। তারপরও আমরা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সবার মধ্যে সমবণ্টনের চেষ্টা করছি।”

কৃষকদের দাবি, উজিরপুরে প্রধান ধান উৎপাদনের মৌসুম হলো ইরি। তাই সেচ প্রকল্প সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো মৌসুমের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এএন

Link copied!