ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি আসাদুল, ৩০ লাখ মুক্তিপণ দাবি

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল ব্যুরো

মে ৬, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি আসাদুল, ৩০ লাখ মুক্তিপণ দাবি

বিদেশ নামের সোনার হরিণ ধরার জন্য লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের ছেলে আসাদুল বক্তিয়ার। কিন্তু সেই সোনার হরিণ তো দূরের কথা, এখন তার জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে গত দুই মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আসাদুলকে নির্যাতনের রোমহর্ষক ভিডিও পাঠিয়ে তাদের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকা আগামী দুই দিনের মধ্যে না দিলে আসাদুলকে হত্যার পর চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর ভিজিট ভিসায় নিকট আত্মীয় ইরফান সরদারের মাধ্যমে বৈধ পথে আসাদুল লিবিয়ায় গমন করেন। সেখানে আনজারা শহরে মসজিদের পাশে একটি দোকানে টেইলারিংয়ের কাজ করে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেশে পাঠাতেন।

আসাদুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ রমজান সেহরি খাওয়ার পর ভোররাতে ৫-৬ জনের একটি মাফিয়া দল তাকে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের আস্তানায় আটকে রেখে হাত ও পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে এবং বিবস্ত্র করে বেদম মারধর করা হয়। চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে রক্ত ঝরানো ও হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়ে সেই দৃশ্য ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

লিবিয়ায় থাকা আসাদুলের শ্যালক ইরফান সরদার বিষয়টি স্থানীয় দুটি থানায় জানালে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও খুঁজতে শুরু করে। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ইরফান গত ৩০ মার্চ পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। পরবর্তীতে তার বোন নিপা বেগমকে সাথে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
নির্যাতনের মাত্রা সইতে না পেরে ভিডিও কলে আসাদুল তার জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যরা সুদে ৩ লাখ ও শ্বশুরবাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা জোগাড় করে গত রবি ও সোমবার ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে মাফিয়াদের ৪ লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু মাফিয়ারা জানিয়ে দিয়েছে আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না পেলে তারা আসাদুলকে কেটে চার টুকরো করে মরুভূমিতে ফেলে দেবে।

ছেলের এমন পরিণতিতে দিশেহারা হয়ে আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার বলেন, “মাফিয়ারা ৩০ লাখ টাকা চায়, দুই মাসে এক টাকাও জোগাড় করতে পারিনি। ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে, শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। সম্পত্তি থাকলে বিক্রি করে টাকা দিতাম। একজন বাবা হয়ে ছেলের এমন করুণ পরিণতি দেখে কীভাবে সইব? সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি, আমার কলিজার টুকরো ছেলেটাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দিন।”

আসাদুলের মা বকুল বেগম ও স্ত্রী নিপা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে আসাদুলকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন। অপরদিকে বাবা আসাদুলের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন আসাদুলের দুই ছেলে হামিম ও শামিম।

আসাদুলের মা বকুল বেগম বলেন, “ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে এবং চাকু দিয়ে শরীর থেকে রক্ত ঝরাচ্ছে। আমি তো একজন মা, তা দেখে কীভাবে সহ্য করব? আমাদের সহায়-সম্বল কিছুই নেই। কীভাবে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনব? দুই মাসে আমাদের নাওয়া-খাওয়া, ঘুম নেই। কীভাবে বেঁচে আছি, আল্লাহই জানেন। এর চেয়ে আল্লাহতায়ালা আমাকে কেন মৃত্যু দেয় না।” বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বকুল বেগম।

আসাদুলের স্ত্রী নিপা বেগম বলেন, “বাকি টাকা আগামী দুই দিনের মধ্যে না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্বামী আমাকে বলে বাঁচাও, এখন আমি কী করব? আমি কীভাবে তাকে বাঁচাব? আল্লাহ ছাড়া এখন আর আমাদের কোনো ভরসা নেই।”

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “লিবিয়ায় আসাদুল নামের এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানালে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করব।”

এএন

Link copied!