নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর
জুন ১৪, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। খুঁটিতে বেঁধে রাখার আগে তার মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পালং শাবনুর মার্কেট এলাকায় মলি বেগম নামে এক নারী এমন ঘটনার শিকার হন।
পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পালং শাবনুর মার্কেট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা টুটুল সরদার দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়াপ্রবাসী। তার স্ত্রী মলি বেগম (৩৭) সন্তানদের নিয়ে উত্তর পালং এলাকায় বসবাস করলেও বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ভাড়া বাসায় থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামী বিদেশে যাওয়ার কিছুদিন পর মলি বেগম প্রতিবেশী ইমারত শ্রমিক দেলোয়ার দপ্তরীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি দেলোয়ারের স্ত্রী ও সন্তানরাও জানতে পারেন। এ নিয়ে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।
মলি বেগমের দাবি, দেলোয়ার দপ্তরী তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৮ লাখ টাকা ধার নেন। টাকা নেওয়ার সময় তিনি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরও করেন। বিষয়টি জানার পর দেলোয়ারের মেয়ে মৌসুমী আক্তার ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার মলি বেগম ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরলে মৌসুমী আক্তার কৌশলে তাকে বাড়িতে ডেকে নেন। পরে স্থানীয় কিছু লোকজনকে নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, মুখে কালি মাখানো হয়, গলায় জুতার মালা পরিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাকে টাকা পাওনার বিষয়টি অস্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মলি বেগম।
ঘটনার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মলি বেগমকে উদ্ধার করে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মলি বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, “দেলোয়ার দপ্তরীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। সে বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা ধার নিয়েছে। পরে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি রাজি না হওয়ায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। টাকার জন্য চাপ দিলে তারা আমার ওপর এই নির্যাতন চালায়। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”
অন্যদিকে দেলোয়ার দপ্তরীর মেয়ে মৌসুমী আক্তার বলেন, “মলি বেগম আমাদের পরিবারে নানা সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। তিনি এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় কিছু নারী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন। পরে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করে। আমাদের কাছে তার কোনো টাকা পাওনা নেই।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “মলি বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এর জেরে তাকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।”
এএন