আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ১৪, ২০২৬, ১০:১০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি রোববারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, আলোচনার প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করছেন।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিরও সমালোচনা করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ওই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সুগম করে দিয়েছিল। তার দাবি, বর্তমান আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতা হচ্ছে যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান এখন আর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী নয় এবং তার প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো মার্কিন সরকারের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ট্রাম্প পোস্টে উল্লেখ করেন, চুক্তি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই সমঝোতায় কোনো ধরনের অর্থনৈতিক প্রণোদনা বা নগদ অর্থ প্রদানের বিষয় নেই, যা ওবামা প্রশাসনের সময় ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানি আলোচকরা এখনো চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ করছেন এবং কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তাদের মতে, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি এই সম্ভাব্য চুক্তিকে রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইতে পারেন।
পোস্টে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিকল্প ব্যবস্থা এখনো রয়েছে।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা আদৌ রোববার স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এএন