মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
জুন ১৪, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় অবস্থিত উত্তরা স্পিনিং মিলসের শ্রমিক-কর্মচারীরা বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী মিলের ভেতরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মিলটি বন্ধ হওয়ার প্রায় ৪-৫ মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ শ্রমিক তাঁদের পাওনা টাকা পাননি। ঈদের আগে মাত্র এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, এক সময় লাভজনক ও সুনামধন্য এই মিলটি গত কয়েক বছরে উৎপাদিত সুতার ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে। এর ফলে প্রায় ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে চার মাস আগে কর্তৃপক্ষ মিলটি বন্ধ ঘোষণা করে এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য ১৮০ দিনের সময় নেয়। তবে এ সময়ের মধ্যে অল্প কিছু শ্রমিককে সামান্য টাকা পরিশোধ করা হলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো তাঁদের পাওনা বুঝে পাননি।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি এস এম খালিদ হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনো পাওনাদার শ্রমিকদের তালিকা প্রকাশ করেনি। কোন শ্রমিক কত বছর চাকরি করেছেন এবং কত টাকা পাবেন, তার হিসাব প্রকাশ করা হলে পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হবে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া সুন্দর আলী এবং কয়েকজন নারী শ্রমিক বৃষ্টি, শামসুন্নাহার ও সমলা আক্তার বলেন, তাঁরা ভাড়া বাসায় থেকে চাকরি করে পরিবার চালাতেন। চাকরি হারানোর পর এখন তাঁদের অনেক কষ্টে দিন কাটছে। অনেকের ঘরে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উত্তরা স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপক অনিমেষ কুমার বিশ্বাস জানান, মালিক পক্ষের সময় নেওয়া ১৮০ দিনের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ দিন পার হয়েছে। বাকি ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।
জেএইচআর