ফরিদপুর প্রতিনিধি
জুন ২১, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক হওয়া মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ডিবি হেফাজতে নেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রোববার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
নিহত ইশতিয়াক মধুখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত মির্জা এসকেন্দার হায়দারের ছেলে এবং ফরিদপুর ল কলেজের ছাত্র ছিলেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মধুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে ইশতিয়াককে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
তবে নিহতের মা খাদিজা আক্তার দাবি করেন, ইশতিয়াককে আটকের সময় তাঁর দেহ বা বাড়ি তল্লাশি করে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হইলো, আমি এ হত্যার বিচার চাই। নিহতের চাচা ও সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর জানান, সকালে তাঁরা হাসপাতাল থেকে প্রান্তর মৃত্যুর খবর পান।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আটকের ঘণ্টাখানেক পর প্রান্ত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত প্রথমে জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে প্রান্ত ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং শরীরে কোনো জখম ছিল না। পুলিশের হেফাজতে কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিষয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
জেএইচআর