ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

মাগুরা গড়াই নদী চলছে বালু লুটের মহোৎসব

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা 

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা 

জুন ২৫, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

মাগুরা গড়াই নদী চলছে বালু লুটের মহোৎসব

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাধ এলাকায় গড়াই নদী থেকে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর তলদেশ কেটে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, গড়াই নদীর লাঙ্গলবাধ অংশে একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু এমআরএস ব্রিকস নামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা এলাকায় জমা করা হচ্ছে। দীর্ঘ পাইপলাইন পাটক্ষেত, কৃষিজমি ও পুকুরপাড় অতিক্রম করে ওই ভাটার মাঠে গিয়ে শেষ হয়েছে। সেখানে বিশাল বিশাল বালুর স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব বালু ট্রাক, লাটা, নসিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন শত শত গাড়ি বালু বহন করছে। ফলে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বদনপুর এলাকার স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু বিশ্বাস বলেন, রাজধারপুর বালুঘাট প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু লাঙ্গলবাধে প্রকাশ্যে ড্রেজার চলছে। লাঙ্গলবাধ বাজার এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে নদীভাঙনে কৃষিজমি,বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, শুধু নদী নয়, বালুবাহী ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা পিংকি বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওগুলো পাঠিয়ে দিন। আমরা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। একই বিষয়ে শ্রীপুর ইউএনও মোহাম্মদ সালেক মুহিদ বলেন, গড়াই নদীতে এভাবে উন্মুক্তভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে, তা আমাদের জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। ভিডিও ফুটেজ পাঠান, দেখি কী করা যায়। তবে প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও পুরোদমে শুরু হয় বালু ব্যবসা।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক গঠন ও প্রবাহকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে নদীভাঙন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং তীরবর্তী জনপদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বদনপুর এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা এবং পুরো বালু বাণিজ্য চক্রের পেছনের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করতে হবে।

জেএইচআর

Link copied!