জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল (খাগড়াছড়ি)
জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরের দিকে পানছড়ির চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গল পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাঙ্গামাটির সাজেক এলাকার বাসিন্দা ইন্দ্রকুমার চাকমার ছেলে পদ্ম চাকমা (১৯), খাগড়াছড়ির পানছড়ির রূপায়ন চাকমার ছেলে রিয়েল চাকমা (২১) এবং রাঙ্গামাটির ধনরা চাকমা (২০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকেরা পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কর্মী ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত যুবকেরা জেএসএস ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। সোমবার সকালে তাঁরা ৫ জন একটি টমটম (ইজিবাইক) যোগে বাজার থেকে ফিরছিলেন। পথে মধুমঙ্গল পাড়ায় আগে থেকে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়। এ সময় অপর ২ যুবককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে পানছড়ি থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে ১৪ রাউন্ড কার্তুজের খোসা (এফসিসি) এবং ২ রাউন্ড তাজা গুলি (অ্যামোনেশন) উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, এই ঘটনার সাথে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জেএসএস-এর ভেতরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। দলটির ৫ সদস্য বিদ্রোহ করে দলত্যাগ করতে চাইলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয় এবং এতে ৩ জন নিহত হন।
পানছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেএইচআর