আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব নিয়ে অন্তত ৮০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকার ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিক ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, সকালে সবাই নিয়মিত কাজে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে কয়েকজন শ্রমিক আচমকা অসুস্থবোধ করতে থাকেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন ফ্লোরে ঢলে পড়েন। এরপর একে একে একই উপসর্গ নিয়ে অন্য ফ্লোরের শ্রমিকরাও অসুস্থ হতে শুরু করেন। অসুস্থদের মধ্যে সিংহভাগই নারী এবং অল্প কয়েকজন পুরুষ শ্রমিক রয়েছেন।
খবর পেয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঁইয়া হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি জানান, প্রথমে দুই-একজন সামান্য অসুস্থতাবোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের দেখাদেখি ভয়ে আরও বেশ কিছু শ্রমিক মানসিক অস্থিরতা ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মোতাহার কলিমুল্লা জানান, তাঁদের হাসপাতালে ৮০ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের কারখানায় প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে কেড়ে নিয়ে লাঞ্ছিত করা হয় বলে গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রীপুর প্রতিনিধি রাতুল মন্ডল অভিযোগ করেন, পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জেএইচআর