টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে অপহরণ করে হত্যা এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় প্রধান আসামি সাব্বির মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্ন ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাব্বির মিয়া (২১) সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, নিহত সামিয়া আক্তার (৯) সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া পালানোর চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
ঘটনার পর নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমো আইডি থেকে ভয়েস বার্তার মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামি। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় মামলা করেন সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সামিয়াকে হত্যার দায়ে সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলার দায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। আসামির উপস্থিতিতেই বিচারক রায় ঘোষণা করেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এম জি