ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মাটিরাঙ্গায় কাজ শেষ না হতেই ভেঙে পড়েছে কোটি টাকার প্রকল্প

জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল

জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল

জুলাই ১৬, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

মাটিরাঙ্গায় কাজ শেষ না হতেই ভেঙে পড়েছে কোটি টাকার প্রকল্প

কাজ শেষ হতে না হতেই খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ভেঙে পড়েছে কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প। উপজেলার সীমান্তবর্তী তবলছড়ি ইউনিয়নে খাদ্যগুদাম ও হাসপাতাল সড়ক রক্ষায় তৈলাফাং খালের ভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত সিসি ব্লক ও গাইডওয়াল ধসে পড়েছে। নির্মাণের ছয় মাস পার হওয়ার আগেই ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ এখন খালের গর্ভে বিলীন। সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও তড়িঘড়ি কাজে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে, খোদ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শীর্ষ কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে নকশাগত (ডিজাইন) ত্রুটির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তবলছড়ি ইউনিয়নের ডাকবাংলা-কদমতলী সড়ক রক্ষায় তৈলাফাং খালের ভাঙন ঠেকাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক ও গাইডওয়াল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এলজিইডি। এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম হেলাল উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ পরিবারের মানুষ চলাচল করে। এছাড়া খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল এবং বিজিবির একটি বিওপিতে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। শুরু থেকেই কাজ নিয়ে আমাদের সংশয় ছিল। দুর্বল নকশা ও দায়সারা কাজের কারণেই আজ এত বড় ক্ষতি হলো। আমরা এই হরিলুটের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।”

তবলছড়ি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আব্দুর রহিম মিজিবুর বলেন, “খাদ্যগুদামে যাতায়াতের মূল সড়কের অংশটি ধসে পড়ায় ভারী যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে পুরো সড়কটিই খালের গর্ভে হারিয়ে যাবে এবং আমাদের খাদ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়বে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, তৈলাফাং খালের তীব্র ভাঙনে প্রতিবছরই এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। স্থায়ী সমাধানের আশায় কোটি টাকার এই প্রকল্প নেওয়া হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি।

প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ধর্মজ্যোতি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী অসীম দেওয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ত্রুটির কথা স্বীকার করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিজাইন) আহমেদ রফিক জানান, সিসি ব্লক ও স্লোপের নির্মাণকাজ ঠিকঠাক মনে হলেও প্রাথমিকভাবে এটিকে নকশাগত (ডিজাইন) ত্রুটি বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তবে শুধু ‘ডিজাইন ত্রুটি’র অজুহাতে পার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন সমাজ। তাদের মতে, কাজ শেষ হতে না হতেই কোটি টাকার প্রকল্প ধসে পড়া উন্নয়নকাজের মান, তদারকি ও জবাবদিহিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের অবহেলা বা অনিয়ম খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এএন

Link copied!