ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন

স্পোর্টস ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ‘মালভিনাস’ বলতে তারা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে বোঝাচ্ছেন। ছবি : সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার উল্লাসের মধ্যেই এক বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল।

ম্যাচ শেষে মাঠের মধ্যেই আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভানি লো সেলসো একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেন, যা সরাসরি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) স্টেডিয়াম আচরণবিধি বা কোড অব কন্ডাক্টের পরিপন্থী। ওই ব্যানারে লেখা ছিল- লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনা' (Las Malvinas Son Argentinas), যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় “মালভিনাস (ফকল্যান্ডস) আর্জেন্টিনার”।

বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক আসরে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পরপরই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন এবং কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে তা ফুটবল মাঠে নতুন করে রূপ নিলো।

ফিফার কড়া নিয়ম ও সম্ভাব্য শাস্তি

ফিফার স্পষ্ট স্টেডিয়াম আচরণবিধি (Stadium Code of Conduct) অনুযায়ী, মাঠের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক বা অন্য কোনো সরঞ্জাম প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সংস্থাটি সবসময়ই খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর যখন পুরো আর্জেন্টিনা দল ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতে উঠেছিল, ঠিক তখনই ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে গ্যালারির দর্শকদের সামনে ওই ব্যানারটি তুলে ধরেন। ব্যানারটি ঠিক কোথা থেকে বা কার কাছ থেকে খেলোয়াড়দের হাতে এসেছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। 

তবে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার পক্ষ থেকে ফিফার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও বুধবার পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) বা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ফকল্যান্ডস বিরোধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশদের কাছে 'ফকল্যান্ডস' এবং আর্জেন্টাইনদের কাছে 'মালভিনাস' নামে পরিচিত। এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে অম্লমধুর, বরং বলা ভালো চরম বৈরি।

,১৯৮২ সালের যুদ্ধ, এই দ্বীপের অধিকারকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মাত্র ৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনার মৃত্যু হয়। যুদ্ধে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় এবং ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

'গণভোট ও জনমত,দ্বীপপুঞ্জের বর্তমান বাসিন্দাদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ব্রিটেনের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে ব্রিটিশ সরকার এটিকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই বিবেচনা 'আর্জেন্টিনার দাবি, আর্জেন্টিনার দাবি একেবারেই ভিন্ন। 

তাদের ঐতিহাসিক যুক্তি হলো, ১৮১৬ সালে স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর তারা উত্তরাধিকার সূত্রে এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা পেয়েছিল। কিন্তু ১৮৩৩ সালে ব্রিটেন একটি অবৈধ ঔপনিবেশিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জোরপূর্বক এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। সেই থেকে আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই দ্বীপের দাবি জানিয়ে আসছে।

ফুটবল মাঠে এই দুই দলের লড়াইয়ে সবসময়ই ১৯৮২ সালের সেই যুদ্ধের আবহ ছায়া ফেলে। ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের বিখ্যাত 'হ্যান্ড অব গড' গোলের ম্যাচের পেছনেও কাজ করেছিল এই রাজনৈতিক প্রতিশোধের আগুন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে জেতার পর খেলোয়াড়রা সরাসরি সেই রাজনৈতিক ইস্যুকেই সামনে নিয়ে এলেন।

এবারের বিশ্বকাপ ও রাজনৈতিক বার্তার পুনরাবৃত্তি

চলমান বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বা প্রতিবাদের প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচ চলাকালীনও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সেখানে ইরানিয়ান-আমেরিকান সমর্থকরা গ্যালারিতে ইরানের বর্তমান তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে প্রাক-বিপ্লব আমলের (Pre-revolutionary flags) পতাকা উড়িয়েছিলেন। 

তবে সেই ম্যাচগুলো কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছিল এবং ফিফা সে ক্ষেত্রে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু এবার সরাসরি খেলোয়াড়রা মাঠে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে চলে আসায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

ফুটবলে রাজনীতি, কোন পথে বিশ্ব ফুটবল?

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এই আচরণ বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এক পক্ষ মনে করছেন, খেলোয়াড়দের আবেগের বহিঃপ্রকাশ এবং নিজেদের দেশের ঐতিহাসিক দাবির প্রতি সংহতি জানানো কোনো অপরাধ হতে পারে না। বিশেষ করে যেখানে ফুটবলের সাথে জাতীয়তাবাদের গভীর সংযোগ রয়েছে।

তবে অন্য পক্ষের যুক্তি হলো, ফিফা যদি এই ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণাকে হালকাভাবে নেয়, তবে ভবিষ্যতে ফুটবল মাঠ বিভিন্ন দেশের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত হবে, যা ফুটবলের মূল চেতনাকে নষ্ট করবে। বিশেষ করে সেমিফাইনালের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এই ধরনের ব্যানার প্রদর্শন ইংলিশ ফুটবলার ও সমর্থকদের খোঁচানোর শামিল বলেও অনেকে মনে করছেন।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার উপর বাড়তি চাপ?

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও মাঠের বাইরের এই বিতর্ক দলের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফিফা যদি ফাইনাল ম্যাচের আগেই এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তা আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভানি লো সেলসো দলের অন্যতম প্রধান দুই স্তম্ভ। তাদের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসলে ফাইনালে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে আর্জেন্টিনার।

এখন দেখার বিষয়, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই ঘটনাকে কতটা গুরুত্বের সাথে নেয়। তারা কি কেবল জরিমানা করেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করবে, নাকি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব। তবে শাস্তির মুখোমুখি হতে হোক বা না হোক, মাঠের ভেতর ফুটবলারদের এই রাজনৈতিক অবস্থান ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো।

এএন

Link copied!