মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ২ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন জটিলতার কারণে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৮ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সূত্র জানায়, পুনঃখননের জন্য নির্ধারিত খালগুলোর মধ্যে বাবুখালী-রায়পুর সুইস গেট থেকে বালিদিয়া নির্বিষখালী পর্যন্ত অংশ অন্যতম। কিন্তু অবশিষ্ট অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদন না পাওয়ায় সেখানে কাজ করা যায়নি।
এদিকে, ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত কাজ ২৪ দিনের মধ্যেই শেষ হয়। ফলে বরাদ্দের একটি বড় অংশ অব্যয়িত থেকে যায়। পরে নিয়ম মেনে অবশিষ্ট ২ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব অংশে পুনঃখননের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে কাজ করা সম্ভব হয়নি। অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবক মো. আব্দুল হালিম বলেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় পুনঃখনন করা খালগুলোতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষি ও স্থানীয় জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
এম জি