ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের টেকসই অগ্রযাত্রা

রুহেল হাশেমী

রুহেল হাশেমী

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:১৯ এএম

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের টেকসই অগ্রযাত্রা

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। 

এটি পেট্রোবাংলার অধীনস্থ একটি শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাপেক্স প্রতিনিয়ত নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কুপ খনন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাপেক্স ধীরে ধীরে দেশের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

বর্তমানে বাপেক্সের প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং দৈনন্দিন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হয়েছে।

বাপেক্সের প্রধান কার্যক্রম

গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান, বাপেক্সের মূল কাজ হলো ভূগর্ভে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের সম্ভাব্য ক্ষেত্র খুঁজে বের করা। এজন্য তারা ভূকম্পন জরিপ (Seismic Survey), ম্যাগনেটিক সার্ভে, গ্র্যাভিটি সার্ভে ইত্যাদি পরিচালনা করে থাকে। সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে কোথায় কূপ খনন করা হবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কূপ খনন ও গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন

সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান সফল হলে সেখানে কূপ খনন করা হয়। খননের মাধ্যমে গ্যাস মজুদের পরিমাণ, চাপ ও গুণগত মান যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে সেই গ্যাসক্ষেত্রকে উন্নয়ন করে উৎপাদন পর্যায়ে নেওয়া হয়।

গ্যাস ও তেল উত্তোলন

খননকৃত কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কনডেনসেট উত্তোলন করে জাতীয় গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প ও গৃহস্থালি পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়।

প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ডেটা বিশ্লেষণ

বাপেক্স ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-ভৌত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের জন্য ডেটাবেস তৈরি করে। এর মাধ্যমে অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে আরও বৈজ্ঞানিক ও দক্ষ করে তোলা হয়।

অন্যান্য কার্যক্রম

গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট পরিচালনা, নতুন কূপ খনন, ওয়ার্কওভার কার্যক্রম এবং বিদেশি কোম্পানির সাথে যৌথ উদ্যোগে অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা বাপেক্সের কাজের মধ্যে পড়ে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ নির্ভর করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর। বাপেক্সের অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম দেশের বিদ্যুৎ খাতকে সচল রাখছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হওয়ার ফলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়।

শিল্প খাতের কাঁচামাল সরবরাহে গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিমেন্ট, সার, টেক্সটাইল, গ্লাস ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্প গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। বাপেক্সের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে শিল্প উৎপাদন আরও গতিশীল হবে।

বাপেক্সের সাফল্য

গত কয়েক দশকে বাপেক্স বেশ কয়েকটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে এবং আরও কিছু অনাবিষ্কৃত ব্লকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন পুরোনো কুপে ওয়ার্কওভার করে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

বাপেক্স বর্তমানে নিজস্ব দক্ষ জনবল, উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের অনুসন্ধান ও খনন কাজ পরিচালনা করছে। এর ফলে বাংলাদেশে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমেছে।

বাপেক্সের কার্যক্রমে কিছু বড়ো চ্যালেঞ্জ রয়েছে

বিনিয়োগ ঘাটতি: অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় ব্লকে কার্যক্রম শুরু করা যায় না।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: কিছু ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ জনবলের অভাব দেখা দেয়, বিশেষ করে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানে।

গ্যাস মজুদের সংকট: দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে আসছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে ভবিষ্যতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাপেক্স ভবিষ্যতে অনশোর ও অফশোর ব্লকে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়াতে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ও 3D সিসমিক জরিপের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বাপেক্স নিজস্ব খনন রিগ ও ওয়ার্কওভার রিগের সংখ্যা বাড়াতে বিনিয়োগ করছে, যাতে দ্রুত নতুন কূপ খনন ও উৎপাদন শুরু করা যায়।

বাপেক্স বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক অগ্রণী শক্তি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়ন টিকিয়ে রাখতে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বাপেক্স নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাপেক্স দেশকে আমদানি নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে পারবে বলে আশা করা যায়। যথাযথ বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা পেলে বাপেক্স ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি খাতে আরও বড়ো অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

এইচআর/জেএইচআর/ইএইচ

Link copied!