আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মে ১৮, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠক করতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক শূন্য ১ ডলার বেড়ে ১১১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে তা প্রায় ১১২ ডলার ছুঁয়েছিল, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ অবস্থান। পরে কিছুটা কমে ওই স্তরে স্থিতিশীল হয়।
অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ২ দশমিক ৩৩ ডলার বা ২ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি। লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছিল, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তেলের বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। গত সপ্তাহে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা থেকেও সংঘাত কমার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার অধিকার থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা থেকে আসা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যুতে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক মাসের ছাড়ের মেয়াদ শেষ করায় ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটিও বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
তেলবাজার বিশ্লেষক বন্দনা হরি বলেন, ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এম জি