ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ডিন নিয়োগ বেআইনি দাবি করে কুবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

কুবি প্রতিনিধি

কুবি প্রতিনিধি

মার্চ ১৭, ২০২৪, ০৬:৪৯ পিএম

ডিন নিয়োগ বেআইনি দাবি করে কুবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সম্প্রতি সিন্ডিকেট সভায় পাঁচ অনুষদের ডিন নিয়োগকে বেআইনি দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ড. মাহমুদুল হাছান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, যে মুহূর্তে প্রশাসনের নানাবিধ হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যায় সংকটাপন্ন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ, পেশাগত অধিকার, নিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতি/স্থায়ীকরণের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশ, জীবনের নিরাপত্তা এবং মান মর্যাদা। ঠিক সেই মুহূর্তে উদ্ধৃত সকল সংকট নিরসনে শিক্ষক সমিতির যৌক্তিক ও ন্যায়সম্মত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের দাবির মুখে আহুত জরুরি সিন্ডিকেট সভার নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মঞ্চায়ন করল নজিরবিহীন এক প্রহসন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বিগ্নতার সাথে লক্ষ্য করছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য একের পর এক অনিয়ম ও আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে চলেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় গত চৌদ্দ মার্চ মাননীয় উপাচার্য এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছিলেন। ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উপাচার্য যে ধরনের অনিয়ম, সংকট ও অনাস্থা তৈরি করে রেখেছেন, সেসবের নিরসন হবে এ ধরনের একটি আশার সঞ্চার হয় সকল শিক্ষকমানসে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারলাম, আশ্চর্যজনকভাবে শিক্ষকদের ন্যায়সংগত দাবি ও কর্মসূচীসমূহকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মাননীয় উপাচার্য উদ্ধৃত পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করার জন্য চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত সিন্ডিটের মূল অ্যাজেন্ডা আলোচনা না করে ডিন নিয়োগের নতুন অ্যাজেন্ডা উত্থাপন করে পাঁচটি অনুষদে ডিন নিয়োগ দিয়েছেন, যার মধ্যে আইন লঙ্গন করে বিভাগের ক্রম উপেক্ষা করে ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান অনুষদে ডিন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ও বেআইনি। ডিন নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬) অনুসারে, যা সিন্ডিকেটের আলোচ্যসূচীভুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। মাননীয় উপাচার্য একের পর এক এ ধরনের বেআইনি কাজের মাধ্যমে চলমান সংকটকে আরো ঘনীভূত করে চলেছেন। জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অ্যাজেন্ডা বহির্ভূত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা নীতি বহির্ভূত এবং সিন্ডিকেট কার্য পরিচালনা বিধির পরিপন্থি। এর দ্বারা প্রমাণ হয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সমাধানের বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫ নম্বর-এ সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অনুষদসমূহের ডিন, প্রভোস্ট, প্রক্টর প্রভৃতি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ‍‍`কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬‍‍` এর প্রয়োগ নিশ্চিয়তাদান এবং অনিয়মের মাধ্যমে (যেমন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত) যেসকল নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে সে সকল কার্যাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে সকল ধরনের অনিয়ম নিরসন এর কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৮ নম্বর ইশতেহারে বর্তমান উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত কার্যবিবরণী এবং সিদ্ধান্তসমূহ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে (জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের চাকুরি স্থায়ীকরণ রোধ, অবৈধ তদন্ত কমিটি গঠন) পরিবর্তন ও একাধিকবার ঘষা-মাজা করা, দরকষাকষির মাধ্যমে বিলম্বিত চিঠি প্রদান (ক্ষেত্রবিশেষে ০২ (দুই) মাস) এবং নিয়ম বহির্ভূত সকল সিদ্ধান্তের বিষয়ে যৌথ কমিশনের (বিচার বিভাগ ও ইউজিসি) মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন ও যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতকরণ এর অঙ্গীকার করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগে উপাচার্য নিজস্ব পছন্দের প্রার্থী, কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী নিয়োগ, নিয়োগে আত্মীয়করণ, একটি বিশেষ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ প্রদানের অপসংস্কৃতির সূচনা করেছেন। সর্বশেষ গত ০৬ মার্চ ২০২৪ শিক্ষকদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক নিয়োগে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা করেন। উপাচার্যের অনিয়মের প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বাণিজ্য অনুষদের ডিন নিয়োগ বোর্ড প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপরও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য বিভাগীয় প্রধান এবং ডিন এর অনুপস্থিতে উপাচার্য কোনো ধরনের মডারেশন ছাড়া একক প্রভাব খাটিয়ে এবং কর্মচারীদের হাতে খোলা প্রশ্নপত্র দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিতে উদ্যত হলে শিক্ষক সমিতি, সাধারণ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের যৌথ বাধার মুখে তিনি নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হন। শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে উপাচার্যের নিকট থেকে কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে পর্যায়ক্রমিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বার বার মাননীয় উপাচার্য, তার অনুগত এবং আশীর্বাদপুষ্ট প্রক্টর, কর্মকর্তা এবং অছাত্র বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিগ্রহ, শারীরিক এবং মানসিক হেনস্থার সর্বশেষ পর্যায়ে ২ দিনের ক্লাস বিরতির ঘোষণা দেন এবং আঠারো মার্চের মধ্যে মাননীয় উপাচার্যকে সকল ধরনের অনাচার-অনিয়ম বন্ধ করার দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান এবং উক্ত দাবিসমূহ না মানা হলে ক্লাস বর্জনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণার পরও তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষকদের চলমান সংকট, আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের সম্ভাব্য ক্ষতির প্রতি কোনো ধরনের ভ্রূক্ষেপ না করে অবৈধভাবে ডিন নিয়োগ করে তার সমস্ত অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত।

ইএইচ

Link copied!