মো. জাহিদুল ইসলাম, মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) এই পাঁচটি ছাত্র সংসদ নিয়ে গঠিত এ প্ল্যাটফর্ম বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
বুধবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্য দেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। এ সময় অন্যান্য ছাত্র সংসদের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে এস এম ফরহাদ বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ প্রতিটি সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল ও অগ্রণী ভূমিকা রেখে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সম্মিলিতভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, এসব গণজমায়েত শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। গণভোটের গুরুত্ব জনগণের সামনে তুলে ধরা, বিভ্রান্তি ও ভয়ের রাজনীতির অবসান ঘটানো এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে গণসচেতনতা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এস এম ফরহাদ আরও বলেন, গণভোট কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের একটি সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার তখনই অর্থবহ হয়, যখন জনগণ ভয়মুক্ত ও সচেতন পরিবেশে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সিলেটের বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্টে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের গণজমায়েত আয়োজন করা হবে। এ গণজমায়েতগুলোতে ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমিতি, প্রেস ক্লাব, শিল্পকলা একাডেমি ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং শিক্ষক-চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। তিনি বলেন, তবে একটি বড় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আমাদের হতাশ করছে। তারা সারা দেশে বক্তৃতা ও ক্যাম্পেইন করলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না। এ ভুল নীতির কারণে তারা ধীরে ধীরে জনসমর্থন হারাচ্ছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারাদেশের ছাত্রসমাজ ও মুক্তিকামী জনগণ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
ভিপি সাদিক কায়েম আরও বলেন, গণজমায়েতগুলোতে অংশ নিতে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ গণজমায়েত থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব এবং জকসুর জিএস আবদুল আলীম আরিফসহ সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংসদগুলোর নেতৃবৃন্দ।
ইইএচ