আমার সংবাদ ডেস্ক
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
ভোলার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শনিবার সকালে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কমিশনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স টিমের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন কমা এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নিয়ম রক্ষার আয়োজন নয়। এখানে জেতার একটাই পথ কমা সেটি হলো ভোট। এর বাইরে কোনো চোরাই পথ বা দুইনম্বরি পদ্ধতি ইসি বরদাশত করবে না।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, কমা কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। তবে কোনো কর্মকর্তা যদি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ কমা অপছন্দ বা রাজনৈতিক আদর্শকে দায়িত্বের ওপর স্থান দেন এবং নিরপেক্ষতা হারান কমা তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ভয়ানক কঠিন পদক্ষেপ নেবে। তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কমা মাঠে কাজ করার সময় নানা রকম ভয়ভীতি কমা ত্রাস কিংবা উচ্ছৃঙ্খল জনতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু কোনো কিছু যেন আপনাদের পেশাদারিত্ব থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আপনাদের লৌহকঠিন দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হবে। তিনি ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব কেন অপরিসীম কমা তার ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, কমা এটি কেবল গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের সফলতার ওপর নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা কমা বৈদেশিক বিনিয়োগ কমা ব্যবসা কমা বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নাতীত হতে হবে।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার কমা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিতে সমন্বিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইসি সানাউল্লাহর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো কমা কারচুপি নয় কমা কেবল জনগণের বৈধ ভোটেই জয়ী হতে হবে। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা গণ কমা উত্তেজনা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহসিকতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার তাগিদ দেন তিনি।
ভোলার এই সভা থেকে নির্বাচন কমিশনারের কড়া বার্তাটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারচুপির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ইসির এই অনড় অবস্থান সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে ফেরার ক্ষেত্রে কতটা আস্থার সঞ্চার করে কমা সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জেএইচআর