ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

রাতে হঠাৎ গ্যাস বা পেটব্যথা হলে করণীয় ও ঘরোয়া চিকিৎসা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

নভেম্বর ৭, ২০২৫, ১১:২৪ এএম

রাতে হঠাৎ গ্যাস বা পেটব্যথা হলে করণীয় ও ঘরোয়া চিকিৎসা

অনেক সময় রাতে হঠাৎ করে পেটে গ্যাস জমে ব্যথা শুরু হয়। বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফেঁপে ওঠা, ঢেকুর ওঠা, এমনকি বুক বা পিঠ পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ভারী রাতের খাবার, তেল-ঝাল খাবার বা দেরিতে ঘুমানো। গভীর রাতে ডাক্তার না পেলে ঘরোয়া কিছু সহজ উপায়ে গ্যাসের সমস্যা ও ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তাৎক্ষণিক করণীয়

হালকা গরম পানি খান: প্রথমেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানি ধীরে ধীরে পান করুন। এতে পাকস্থলীর চাপ কমে, গ্যাস উপরে উঠে আসে ও ব্যথা উপশম হয়।

সোজা হয়ে বসুন বা হাঁটুন: শুয়ে পড়লে গ্যাসের চাপ বাড়ে। তাই বিছানা থেকে উঠে সোজা হয়ে বসুন, হালকা হাঁটুন। এতে পেটে জমে থাকা গ্যাস বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।

পেটে হালকা মালিশ করুন: ঘড়ির কাঁটার দিকে পেটের ওপর হালকা গরম হাত দিয়ে মালিশ করুন। এতে গ্যাস নড়াচড়া করে বেরিয়ে আসে এবং ব্যথা কমে।

গরম সেঁক (Hot Compress): একটি গরম পানির ব্যাগ বা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে পেটে রাখুন। এটি পেটের পেশি শিথিল করে এবং গ্যাসের ব্যথা কমায়।

ঘরোয়া উপায় ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আদা ও মধু: এক চা চামচ আদার রসের সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। আদা হজম শক্তি বাড়ায় ও গ্যাস দূর করে।

লেবু ও গরম পানি: এক গ্লাস গরম পানিতে আধা লেবুর রস মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। এটি পাকস্থলীর এসিড ভারসাম্য ঠিক রাখে ও গ্যাস উপশম করে।

জিরা পানি (Cumin Water): এক চা চামচ জিরা ভেজে গুঁড়ো করে এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে খান। এটি হজমে সহায়তা করে ও পেটের ফাঁপাভাব দূর করে।

পুদিনা বা তুলসীপাতার চা: ৪–৫টি পুদিনা বা তুলসীপাতা পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। রাতে গ্যাসে ভুগলে এই পানীয় গরম অবস্থায় চুমুক দিয়ে খান।

লবণ ও সোডা পানি: আধা গ্লাস পানিতে এক চিমটি লবণ ও এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে খান। এটি দ্রুত গ্যাস বের করতে সাহায্য করে (তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলবেন)।

কলা ও দই: অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির কারণে গ্যাস হলে একটি পাকা কলা বা এক কাপ দই খেতে পারেন। এটি পেট ঠান্ডা রাখে ও এসিড কমায়।

রাতে গ্যাস বা ব্যথা হলে যা করবেন না

একদম শুয়ে পড়া, চা–কফি বা ঠান্ডা পানীয় পান করা, তেল–মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া, তামাকজাত দ্রব্য বা ধূমপান।

পরদিন সকালে করণীয়

সকালে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান। নাশতায় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার রাখুন যেমন ওটস, ফল, বা সেদ্ধ ডিম। দুপুরের খাবারে অতিরিক্ত ঝাল, মশলা ও ভাজা খাবার পরিহার করুন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

রাতের সাময়িক গ্যাস সাধারণত ক্ষতিকর নয়, কিন্তু যদি নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই পরদিন ডাক্তার দেখান বারবার গ্যাস বা পেট ফাঁপার পুনরাবৃত্তি, বুক জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা, গিলতে কষ্ট, বমি বা রক্ত বমি, ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা।

প্রতিরোধের জন্য দৈনন্দিন টিপস

১. রাতে ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করুন।

২. খাওয়ার পর হালকা হাঁটুন ১০–১৫ মিনিট।

৩. খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান।

৪. নিয়মিত পানি পান করুন, বিশেষ করে গরম পানি।

৫. চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার সীমিত করুন।

রাতে হঠাৎ গ্যাস বা পেটব্যথা হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো চেষ্টা করা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এতে আরাম মেলে। তবে ঘন ঘন এমন হলে তা হজমের বা গ্যাস্ট্রিকের বড় সমস্যা হতে পারে, যা চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

গ্যাসের রোগে প্রথম ওষুধ হলো সচেতনতা, দ্বিতীয় ওষুধ হলো নিয়মিত অভ্যাস।

Link copied!