ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পবিত্র রমজানে সুস্থ থাকতে মেনে চলবেন যেসব পরামর্শ

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

পবিত্র রমজানে সুস্থ থাকতে মেনে চলবেন যেসব পরামর্শ
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র এক দিন। শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এ সময় রোজা রাখা শুধু ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে থাকা নয়। এটি আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি এবং নিজের অভ্যাসকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি সুযোগ।

এই সময় শরীরের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিকভাবে না খেলে সহজেই ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও রক্তে শর্করার ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

সচেতন খাদ্যাভ্যাস রোজাকে সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে পারে। নিচে সাহরি ও ইফতারে কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায়, পুষ্টিবিদের পরামর্শে তার একটি সহজ নির্দেশনা দেওয়া হলো।

হাদিসে সাহরিকে বরকতময় খাবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই সময়ের খাবার এমন হওয়া উচিত, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে।

সাহরিতে জটিল শর্করা রাখুন। যেমন ওটস, লাল আটা বা মাল্টিগ্রেইন রুটি, বাসমতি চালের ভাত। এগুলো ধীরে ধীরে শক্তি দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

এর সঙ্গে রাখুন হালকা প্রোটিন। যেমন ডিম, দই, ডাল, ছোলা, মাছ। প্রোটিন পেট ভরা রাখে এবং পেশি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যকর চর্বিও গুরুত্বপূর্ণ। বাদাম, বীজ, চিনাবাদাম, তিল বা অল্প পরিমাণে অ্যাভোকাডো রাখা যেতে পারে।

আঁশযুক্ত ফল ও সবজি যেমন আপেল, কলা, শসা, গাজর, টমেটো ইত্যাদি হজমে সাহায্য করে এবং শরীরে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে। সাহরির সময় অন্তত দুই থেকে তিন গ্লাস পানি ধীরে ধীরে পান করা উচিত।

রোজা ভাঙার সময় হঠাৎ বেশি বা ভারী খাবার খাওয়া ঠিক নয়। সুন্নাহ অনুযায়ী খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা শুরু করা উত্তম। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যা দ্রুত শক্তি দেয়। পানি শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করে। এরপর হালকা স্যুপ বা সালাদ খেলে পাকস্থলী ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়।

মূল খাবারে ভারসাম্য রাখুন। থালার অর্ধেক অংশে রাখুন সবজি। এক-চতুর্থাংশে জটিল শর্করা যেমন ভাত বা লাল আটার রুটি। বাকি এক-চতুর্থাংশে প্রোটিন যেমন মুরগি, মাছ, ডাল বা ছোলা।

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি ও লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো পেট ফাঁপা, অস্বস্তি ও দ্রুত ক্লান্তির কারণ হতে পারে। প্রিয় কোনো ভাজা খাবার খেতে চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়টুকুতে ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। গড়ে আট গ্লাস বা তার বেশি পানি প্রয়োজন হতে পারে, যা ব্যক্তির কাজের ধরন ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে।

পানিসমৃদ্ধ খাবার যেমন শসা, তরমুজ, কমলা ইত্যাদি শরীরে তরল সরবরাহ বাড়ায়। চা বা কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বেশি খেলে বারবার প্রস্রাব হতে পারে এবং শরীরের পানি কমে যেতে পারে।

রমজান মানেই সারাদিনের ক্ষুধা একসঙ্গে পূরণ করা নয়। অতিরিক্ত খেলে হজমে সমস্যা হয় এবং শরীর ভারী লাগে। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া এবং পেট ভরার আগেই থেমে যাওয়া ভালো অভ্যাস।

হাদিসে উল্লেখ আছে, মানুষ তার পেটের চেয়ে খারাপ পাত্র আর কিছু পূর্ণ করে না। তাই খাবার, পানি ও শ্বাসের জন্য পেটের অংশ ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সুন্নাহর নির্দেশনা ও পুষ্টিবিজ্ঞানের পরামর্শ একসঙ্গে অনুসরণ করলে রমজান হতে পারে শরীর ও আত্মার সুস্থতার সময়। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ক্লান্তি কমায়, শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রোজাকে করে তোলে সহজ ও অর্থবহ। এই রমজানে সংযমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্তও হোক আমাদের অঙ্গীকার।

এএন

Link copied!