ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এপস্টেইন রহস্য: পর্দার আড়ালে কি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ছিল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

এপস্টেইন রহস্য: পর্দার আড়ালে কি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ছিল!

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন কেবল একজন অপরাধীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাধরদের নিয়ন্ত্রক এক ‘অন্ধকার জাদুকর’। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিপত্র এক চাঞ্চল্যকর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে—এপস্টেইন কি আসলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর একজন গভীর স্তরের এজেন্ট ছিলেন?

গত শুক্রবার প্রকাশিত নতুন নথিতে দেখা গেছে, বিল ক্লিনটন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতাদের চেয়েও ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা অভিজাতদের সাথে এপস্টেইনের সম্পর্ক ছিল অনেক বেশি গভীর, ধারাবাহিক এবং রহস্যময়।

নতুন নথিতে সবচেয়ে বেশিবার উচ্চারিত হয়েছে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক-এর নাম। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বারাক ও তাঁর স্ত্রী নিলি প্রিয়েল একাধিকবার নিউইয়র্কে এপস্টেইনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে রাত কাটিয়েছেন।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ২০০৮ সালে যখন এপস্টেইন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে দণ্ডিত এবং একজন নিবন্ধিত ‘যৌন অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত হন, তার পরেও এহুদ বারাক তাঁর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। ই-মেইল চালাচালিতে দেখা যায়, এপস্টেইনের ব্যক্তিগত সহকারীরা বারাকের ঘর পরিষ্কার থেকে শুরু করে ভ্রমণ পরিকল্পনা পর্যন্ত সবকিছুর সমন্বয় করতেন।

২০২০ সালের একটি বিস্ফোরক এফবিআই স্মারক (Memo) এই বিতর্কে ঘি ঢেলেছে। মার্কিন নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব নিয়ে তদন্তের সময় তৈরি করা ওই নথিতে এক গোপন সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে:

এপস্টেইন কেবল একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মোসাদের একজন নিয়োগকৃত ইন্টেলিজেন্স এজেন্ট।

তিনি এহুদ বারাকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বারাক যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন এপস্টেইন তাঁর অধীনে বিশেষ গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

যদিও এই তথ্যগুলো কোনো বিচারিক রায় নয়, তবুও এফবিআইয়ের দাপ্তরিক নথিতে এই অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এপস্টেইনের ‘মোসাদ সংশ্লিষ্টতা’র বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল।

২০০৮ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে করা ফেডারেল মামলা যেভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল, তাকে ফ্লোরিডার স্থানীয় পত্রিকাগুলো ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ বলে অভিহিত করে। তখন ফেডারেল কৌঁসুলি অ্যালেক্সান্ডার অ্যাকোস্টা নাকি দাবি করেছিলেন যে, তাঁকে উপরমহল থেকে জানানো হয়েছিল— “এপস্টেইন গোয়েন্দা সংস্থার (ইসরায়েলি) লোক, তাই তাঁর ব্যাপারে নমনীয় হতে হবে।”

এই বিশেষ সুরক্ষার কারণেই আজীবন কারাদণ্ডের বদলে তিনি মাত্র ১৩ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন এবং জেলের ভেতরে থেকেও প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বাইরে গিয়ে অফিস করার অবিশ্বাস্য সুযোগ ভোগ করেছিলেন।

নতুন নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ বার এসেছে। এফবিআই স্মারকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইসরায়েলি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ‘চাবাদ-লুবাভিচ’-এর মাধ্যমে এপস্টেইন তাঁর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

এমনকি এপস্টেইন নিজেকে একজন ছায়া-কূটনীতিক হিসেবেও উপস্থাপন করতেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইসরায়েল সফরের পরামর্শ তিনিই দিয়েছিলেন যাতে ওয়াশিংটনের সাথে দিল্লির সম্পর্ক মজবুত হয়। যদিও ভারত সরকার এই দাবি অস্বীকার করেছে, তবে নথিপত্র বলছে এপস্টেইন নিয়মিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শাসক এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করতেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের যে ‘সেক্স ভিডিও’ বা গোপন তথ্য তিনি সংগ্রহ করতেন, তা সম্ভবত কোনো একটি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। নতুন প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইন নিজে বারাককে এক বার্তায় বলেছিলেন— “প্রকাশ্যে স্পষ্ট করুন যে আমি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করি না।” কেন একজন অপরাধীকে এমন সাফাই গাইতে হবে, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে।

এপস্টেইন কি কেবল একজন বিকৃত মস্তিষ্কের অপরাধী ছিলেন, নাকি তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা রাজনীতির এক ভয়ংকর দাবার ঘুঁটি? লাখ লাখ পৃষ্ঠার এই নথি এখন একটি বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে—এপস্টেইন একা ছিলেন না। তাঁর পেছনে ছিল কোনো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা বলয় এবং রাজনৈতিক দায়মুক্তি। 

এএন

Link copied!