আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
যুদ্ধবিরতির স্বস্তি কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বুধবার মাত্র ১০ মিনিটে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী বৈরুতসহ পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে রাতভর এই হামলায় বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার এই ঘটনাকে “পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ইরানেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসফাহান ও কেরমান শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তেহরানের দাবি, এটি সদ্য হওয়া যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি থাকলেও লেবাননে হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত থাকবে। তার এই অবস্থান দেশটির ভেতরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এই যুদ্ধবিরতিকে “কূটনৈতিক বিপর্যয়” আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর কৌশলগত ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, লেবাননে হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুরা সামান্য ভুল করলেই তারা পূর্ণমাত্রার প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান স্পষ্ট। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের বেছে নিতে হবে, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে প্রক্সি যুদ্ধ।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এ বিষয়ে সমন্বয় রয়েছে। একই কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবানন ইস্যুতে ইরান যদি সমঝোতা থেকে সরে আসে, তবে তা বড় ধরনের কৌশলগত ভুল হবে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হামলা ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।
এএন