আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ২৯, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ভারতের মুম্বাইয়ে তাজিয়া মিছিলে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক ফাইয়াজ প্রেমজি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। গত ২৬ জুন মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের চেষ্টা করেন তিনি, তবে স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্কতা ও তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। খবরটি প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া ফাইয়াজ প্রেমজি বর্তমানে জোর তদন্তের মুখে রয়েছেন। তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুনেতে নিজের বাড়ির আশপাশে ইঁদুরের উপদ্রব দেখেই তিনি এই ভয়ংকর পরিকল্পনার দিকে অগ্রসর হন। তিনি যে জিঙ্ক ফসফাইড ব্যবহার করেছিলেন, তা মূলত ইঁদুর মারার বিষ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জিঙ্ক ফসফাইডের বিভিন্ন মাত্রার প্রভাব মানবদেহে কী হতে পারে- তা বোঝার জন্য তিনি গুগল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিস্তর গবেষণা চালান। সহজেই রাসায়নিকটি সংগ্রহ করেন তিনি। এছাড়া তিনি প্রায় ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল ও ৫০ কেজি জিঙ্ক ফসফাইড অর্ডার করেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
৩৯ বছর বয়সী ফাইয়াজ প্রেমজি পুনের বিমান নগরের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার কোনার্ক নগর টাউনশিপের ২৫ নম্বর রো হাউসে বসবাস করছিলেন। পারিবারিকভাবে তার বাবা একটি রঙের কারখানার মালিক, এবং সেখানেই তিনি কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকারী সূত্র বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি মোট ১৯ বার বিদেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে তিনবার ইরান সফরের ঘটনাও রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো বিদেশি যোগসূত্র বা ষড়যন্ত্র আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার বিষাক্ত ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, তিনি এই ক্যাপসুল বিতরণকে ‘মহৎ কাজ’ বলে দাবি করেছিলেন এবং অন্যদেরও এতে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এএন