ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

শোকজ নয়, নিয়মিত প্রশাসনিক তথ্য চাওয়া হয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট

আদালত প্রতিবেদক

আদালত প্রতিবেদক

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

শোকজ নয়, নিয়মিত প্রশাসনিক তথ্য চাওয়া হয়েছে: সুপ্রিম কোর্ট

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ একদিনে বিপুলসংখ্যক জামিন মঞ্জুর করায় প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কেউ কেউ সংবাদটিকে 'শোকজ' হিসেবে ও উল্লেখ করেন। 

ওই খবরের সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। 

পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, এটি কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ তদারকির অংশ হিসেবে কিছু তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া।

হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। 

আদালত কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ওই তিন বিচারপতির কাছে কেবল মামলা সংক্রান্ত কিছু তথ্য চেয়েছেন, যা আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।

দিনভর নানা গণমাধ্যমে 'তিন বিচারপতিকে শোকজ' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

এতে জানানো হয়, উল্লিখিত তিন বিচারপতিকে কোনো শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি; বরং নিয়মিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বাস্তব পরিস্থিতি বিকৃত ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে আদালত সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।'

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আদালত সংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে গণমাধ্যমকে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে হবে, যাতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয় এবং জনগণ বিভ্রান্ত না হয়।

একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব কেবল রায় লেখা নয়, আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রমও তদারকি করা। মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে তিনি তথ্য জানতে পারেন এটি সম্পূর্ণ নিয়মের মধ্যে পড়ে।'

তবে তিনি গণমাধ্যমে ‘শোকজ’ শব্দের ব্যবহারকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

বিচার বিভাগ সম্পর্কিত সংবেদনশীল খবর প্রকাশে সাংবাদিকদের পেশাগত সতর্কতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

আদালতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ এ বিষয়ে যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশ কেবল আদালতের ভাবমূর্তি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।'

গত ২৩ অক্টোবর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, একটি বেঞ্চ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ মামলায় জামিন দিয়েছে এটি তদন্তযোগ্য বিষয়।'

তার এই বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক পরিমণ্ডলে উচ্চ আদালতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা বাড়ে। তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন মনে করে, এই ধরনের আলোচনার আগে তথ্যের যথাযথ যাচাই অপরিহার্য।

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করেছে যে কোনো বিচারপতিকে ‘শোকজ’ করা হয়নি। বরং এটি আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নজরদারির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়।

বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা ও জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে তথ্যপ্রবাহে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

ইএইচ

 

ইএইচ

Link copied!