ডিসেম্বর ১৩, ২০২২, ০৩:০৬ পিএম
নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। ২০২৪ সালে প্রকল্পের সময়সীমা ছিল। এক বছর আগেই চালু হচ্ছে। এরইমধ্যে ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ট্রেন থেকে নেমেই সমুদ্রে পা বাড়াতে পারবেন পর্যটকরা। ট্রেন চালু হলে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পাল্টে যাবে এ জনপদের জীবন যাত্রা।
কক্সবাজার এলাকায় নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম আইকনিক রেল স্টেশন। ২৯ একর জমির ওপর ঝিনুকের আদলে নির্মিত হচ্ছে এই রেল স্টেশন, যার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। যাতে থাকবে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাই। এই স্টেশনের মতোই দ্রুত এগিয়ে চলছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ। এরমধ্যে শেষ হয়েছে ৭৫ ভাগ। প্রকল্পটির সময়সীমা ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত হলেও প্রকল্প পরিচালকের দাবি, আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে ট্রেন চলাচলের উপযোগী হবে এই রেলপথ।
দোহাজারি-ঘুমধুম রেল প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মুফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সময়ের আগেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল কাজগুলো জুন-জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এরপর টুকটাক কাজ বাকি থাকবে যা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। আমরা আশাবাদী ২০২৩ এর মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হবে।
রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান কোচগুলোতে ছোট জানালা কিন্তু এখানের কোচে বড় জানালা থাকবে যাতে সবাই ভালভাবে প্রকৃতি দেখতে পারে। এছাড়াও স্লিপিং ও এসি কামড়ার পরিমাণ বেশি থাকবে। স্থানীয়রাও মুখিয়ে আছেন এই রেলপথ চালুর জন্য। তাদের আশা, রেলপথটি চালু হলে পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি মৎস্য, বনজ ও কৃষিজ পণ্য পরিবহনও সহজ হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৬ জুলাই ‘চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের ঘুমধুম সীমানা পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পের অধীনে দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের রামু পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের কথা ছিল। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেললাইন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকল্পটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ ও সিঙ্গেল ট্র্যাকের রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে মিয়ানমার সরকারের সম্মতি না থাকায় আপাতত রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার রেললাইনের কাজ হচ্ছে না। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রামু পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। পরে ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার। প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে ১০০ কিলোমিটার রেলপথ। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৩৯টি বড় সেতু, ২২৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে। হাতি চলাচলের জন্য থাকবে আন্ডারপাস। নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজারে।
এআই
