আমার সংবাদ ডেস্ক
ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০২:৪৫ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা ও দাফন শেষে উপস্থিত জনতাকে শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার জানাজার আগমুহূর্তে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
জানাজা পূর্ব ভাষণে আবদুল্লাহ আল জাবের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারী বা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীকে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে বিস্তারিত জানানোর দাবি জানান। একই সাথে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের পরবর্তী নির্দেশনার জন্য শাহবাগে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অংশগ্রহণ করেন। জানাজার আগে ধর্ম উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং শহীদ হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এরপর হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক বক্তব্য দেন এবং তাঁর ইমামতিতেই জানাজা সম্পন্ন হয়।
শনিবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গোসল ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ জানাজার জন্য সংসদ ভবন এলাকায় আনা হয়। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতাল ও জানাজা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্মরণে আজ শনিবার সারাদেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
জেএইচআর