নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আলোচিত ও বিতর্কিত নাম ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন’ বা র্যাব। অবশেষে এই এলিট ফোর্সের নাম ও পরিচয় বদলে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্থাটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (Special Intervention Force), যার সংক্ষিপ্ত রূপ হবে এসআইএফ (SIF)।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে র্যাবের কাঠামো ও নামে পরিবর্তনের দাবি ওঠে। বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে বাহিনীটির ইমেজ পুনরুদ্ধারে এই পরিবর্তনকে জরুরি মনে করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র্যাবের সংস্কার ও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ নামটির সুপারিশ করে। কোর কমিটির সভায় সেই সুপারিশ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত দাপ্তরিক আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর র্যাব সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনে ব্যাপক সাফল্য দেখালেও গত কয়েক বছরে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘আয়নাঘর’ ইস্যুসহ বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সংস্থাটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
র্যাব থেকে এসআইএফ-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি কেবল নাম বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পোশাক ও লোগো: বাহিনীর পোশাকের রঙ এবং বর্তমান লোগোতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।
পরিচালনা বিধি: এসআইএফ-এর জন্য নতুন পরিচালনা বিধিমালা বা অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা হবে, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জনবল কাঠামো: বর্তমানের মতো পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কাঠামো বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
র্যাব বা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নামটি বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে একটি বিশাল অধ্যায় জুড়ে আছে। সেই অধ্যায় বন্ধ করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই এলিট ফোর্সের জন্য একটি নতুন পরীক্ষা। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর কর্মপদ্ধতিতে কতটা গুণগত পরিবর্তন আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এএন