নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার নয়, তাই তাদের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা নৈতিক বাধা নেই।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আসন্ন গণভোটের প্রচার এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সাধারণত নির্বাচিত সরকারগুলোর ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ অবলম্বন করা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছে না। আমরা একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছি। যেহেতু এই সরকার নির্বাচিত কোনো পক্ষ নয়, তাই দেশ সংস্কারের যে প্রস্তাবনা গণভোটে রাখা হয়েছে, তার পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর পূর্ণ অধিকার এই সরকারের রয়েছে।
সভায় ড. আলী রীয়াজ বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সনদে এমন কোনো বিষয় রাখা হয়নি যা নাগরিক অধিকারকে সংকুচিত করবে। বরং এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার দলিল হিসেবে কাজ করবে।
স্বৈরতন্ত্রের অবসান: ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে আর কখনো ‘এক ব্যক্তির শাসন’ ফিরে আসতে না পারে, সেই রক্ষাকবচ এই সনদে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা: জুলাই বিপ্লবের স্পৃহা ধরে রেখে রাষ্ট্রের সকল স্তরে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।
গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: ব্যক্তিগত ক্ষমতার চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে বেশি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে ড. আলী রীয়াজ বলেন, সময়ের স্বল্পতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কথা চিন্তা করেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সিদ্ধান্ত একসাথে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে মৌলিক কাঠামো বা পরিবর্তনের রূপরেখা নিয়ে এই গণভোট, তা নতুন সংসদ গঠনের আগেই জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া জরুরি বলে মনে করে সরকার।
ড. আলী রীয়াজ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণরাই জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক। তাই এই সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সাধারণ ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে প্রচার চালানোর এই ঘোষণা নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের সরাসরি সমর্থন আদায়ের জন্য সরকার যে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ড. আলী রীয়াজের বক্তব্য থেকে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এএন