ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বিদেশযাত্রায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বিদেশযাত্রায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

সরকারি, আধা-সরকারি, স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ পরীক্ষায় কেউ পজিটিভ হলে তাকে চাকরির জন্য অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

শুধু চাকরিই নয়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন, বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি—এসব ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্টের বিধান রাখা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানিয়েছে, এই বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ফলে চাকরি বা অন্যান্য সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় অনেকেই মাদক সেবন থেকে বিরত থাকবে, এতে মাদকাসক্তের সংখ্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সরকারিভাবে জৈব নমুনা পরীক্ষা করে মাদকদ্রব্য শনাক্ত করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে ডোপ টেস্ট করাতে আসেন।

মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের নির্দেশনা থাকলেও এতদিন এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিমালা ছিল না। শুরু থেকেই বিধিমালা প্রণয়নে কাজ করে আসছিল ডিএনসি। অবশেষে আট বছর পর ‘ডোপ টেস্ট বিধিমালা-২০২৬’ জারি হওয়ায় এই পরীক্ষা পূর্ণ আইনি কাঠামোর আওতায় এলো। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, কার্যক্রমটি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলে দেশে মাদকাসক্তের হার কমবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি, আধাসরকারি, স্থানীয় সরকার, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে তারও পরীক্ষা করা যাবে। যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন, বিদেশে কর্মসংস্থানে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে ডোপ টেস্ট করা হবে।

ডিএনসির কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালটেন্ট ডা. কাজী লুতফুল কবীর বলেন, কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই এ পরীক্ষা চালু ছিল। তবে এখন এটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিধিমালা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষায় কেউ পজিটিভ হলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার পাশাপাশি তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানিয়েছেন, নখ, চুল, রক্ত ও মুখের লালার নমুনা ব্যবহার করে ডোপ টেস্ট করা সম্ভব এবং বর্তমানে সেই সক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো পদ্ধতি চালু হলে সেটির সক্ষমতাও অর্জন করা হবে।

ডিএনসি আরও জানিয়েছে, বিধিমালা জারি হওয়ায় এখন থেকে বেসরকারিভাবে ডোপ টেস্ট করা যাবে না। সরকারিভাবে ঢাকার কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি সারা দেশে ধাপে ধাপে এ পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মহাপরিচালক জানান, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনায় বর্তমানে ডোপ টেস্ট পরিচালনার সক্ষমতা ও জনবল রয়েছে। আরও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে, যাতে সহজ ও দ্রুত সেবা দেওয়া যায়। তৃণমূল পর্যায়ে এই পরীক্ষা পৌঁছে দিতে পারলে মাদক সেবনের প্রবণতা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিধিমালার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতেও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ডিএনসি।

এএন

Link copied!