ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফিরলেন নুরুল হক: প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন যাত্রা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফিরলেন নুরুল হক: প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন যাত্রা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ রদবদলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফিরেছেন মো. নুরুল হক। এর আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, উভয় দপ্তরের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এখন থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের নেতৃত্ব দেবেন।

তাঁর এই পুনঃনিয়োগ দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই খাতটি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। মো. নুরুল হক পূর্বে যখন দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তখন থেকেই তিনি অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে সচেষ্ট ছিলেন।

এখন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শুধুমাত্র প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মনোনিবেশ করার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর কাজের গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো, বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট ও নিবেদিত নেতৃত্ব তৈরি করা।

মো, নুরুল হক তাঁর পূর্ববর্তী মেয়াদে বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস করে রিক্রুটিং এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, প্রবাসীদের জন্য অনলাইন ক্লিয়ারেন্স এবং স্মার্ট কার্ড প্রক্রিয়া সহজতর করার মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা এবং গতানুগতিক মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার মতো কাজগুলো অন্যতম। 

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমার মূল লক্ষ্য হবে প্রবাসীদের সম্মান রক্ষা করা এবং বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও সুসংহত করা। আমরা চাই না কোনো কর্মী বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হোক।

নুরুল হকের সামনে এখন বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির একাধিপত্য বা সিন্ডিকেট নির্মূল করে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। 

এ ছাড়া অদক্ষ শ্রমিকের বদলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও ভাষাগত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং হুন্ডি বন্ধ করে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় প্রণোদনা নিশ্চিত করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো অন্যতম। একইসাথে বিদেশে বিপদে পড়া কর্মীদের দ্রুত আইনি সহায়তা এবং দেশে ফেরার পর তাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি।

২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এখনো বড় বাজার। তবে নুরুল হক নতুন করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে, যেমন রোমানিয়া, পোল্যান্ড, বড় আকারের জনশক্তি রপ্তানির দিকে নজর দিচ্ছেন। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং সেবিকা বা নার্সিং খাতে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন প্রতিমন্ত্রী যদি এই উচ্চ মানসম্পন্ন দক্ষ খাতে গুরুত্ব দেন, তবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা সম্ভব।

সাধারণ প্রবাসী কর্মীদের মতে, এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ করা এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে আরও কর্মী বান্ধব করে তোলাই হবে নতুন প্রতিমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। 

একজন প্রতিমন্ত্রী যখন শুধুমাত্র একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন, তখন তৃণমূল পর্যায়ের সমস্যাগুলো সমাধান করা অনেকটা সহজ হয়। কুয়েত প্রবাসী এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা চাই একজন নিবেদিত অভিভাবক, যিনি আমাদের কষ্টের মূল্য বুঝবেন এবং বিদেশে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

মো. নুরুল হকের অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী কাজের রেকর্ড বিবেচনা করলে তাকে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন যোগ্য নেতা হিসেবেই গণ্য করা হয়। তবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে তিনি কতটা সফল হতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই নতুন যাত্রা সফল হলে তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের জোয়ার আনবে। নুরুল হকের নেতৃত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি স্বচ্ছ, গতিশীল এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

জেএইচআর

Link copied!