আমার সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
নতুন বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঐতিহাসিক জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মেজর অব হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার সকালে সাভারে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সংসদ পরিচালনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। স্পিকারের সাথে এসময় নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক অনন্য উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনায় আমার ভূমিকা হবে ক্রিকেট খেলায় একজন আম্পায়ারের মতো। আমি কোনো দলের হয়ে নয়, বরং আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপসহীন থাকব।
তিনি আরও জানান, সংসদে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি ইতিমধ্যে নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দলের অধিকার রক্ষায় তিনি যথেষ্ট সহনশীল থাকবেন উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমরা সবাই একসাথে ছিলাম, তাই সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করার কোনো মানসিকতা আমাদের নেই। সংসদ হবে সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সকাল সোয়া ১০টার দিকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর স্পিকার স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন। পরিদর্শন বইয়ে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধকে স্বাধীনতার পবিত্রতম ধারক হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়াও গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, সেইসব ছাত্র জনতা ও অভিভাবকদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
কেমন হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সংসদ হবে সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান ভিত্তি। আমরা চাই একটি প্রাণবন্ত সংসদ, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। সাভার থেকে ফিরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যান। সেখানে তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং মরহুম নেতাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আগামীকাল থেকে সংসদের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের এই আম্পায়ার সুলভ নিরপেক্ষতার ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের জন্য সংসদে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত এই সংসদ কতটুকু সফল হয়, তা নির্ভর করবে স্পিকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কার্যকর প্রয়োগের ওপর।
জেএইচআর