ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্র চলে সংবিধান ও আইন দিয়ে, আবেগ দিয়ে নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১৫, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

রাষ্ট্র চলে সংবিধান ও আইন দিয়ে, আবেগ দিয়ে নয়
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে আইন এবং সংবিধান, কোনো আবেগীয় তাড়না নয় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এমনই এক নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারি দলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। 

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দানকালে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্র কোনো খেয়ালি আবেগে চলে না; বরং এটি পরিচালিত হয় সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কিছু দাবি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিতর্কের মুখে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে 'আরোপিত আদেশের' কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোতে কাজ করছি। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। যারা একে আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে চাইছেন, তারা কি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ, নাকি জেনেবুঝেই সংবিধান লঙ্ঘনের উসকানি দিচ্ছেন?’

তিনি আরও যোগ করেন, জনরায়ের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু সেই রায়কে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। কোনো 'অবৈধ আদেশের' মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব নয়।

অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের সময় বিরোধী দলের অনুপস্থিতিকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলীয় বন্ধুরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চাননি, তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন। 

এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে, কিন্তু সংসদীয় শিষ্টাচারের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ভাবার বিষয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা ভাষণ শুনতে চাননি ঠিকই, কিন্তু আবার সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।’

সরকার পক্ষ এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একে এপ্রিশিয়েট করি। যদি ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে আমরা পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করব যাতে দেশবাসী সত্য জানতে পারে।’

বর্তমান অধিবেশনের ব্যস্ততা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অধিবেশনে আমাদের ওপর ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির একটি বিশাল আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজ হাতে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিল উত্থাপন করা এই মুহূর্তে কঠিন। তবে আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করছি না।’

তিনি প্রস্তাব করেন যে, আগামী বাজেট অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিল উত্থাপন করা হবে যা আইনিভাবে হবে ত্রুটিমুক্ত।

জুলাই জাতীয় সনদকে একটি 'ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল' হিসেবে স্বীকৃতি দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি দায়বদ্ধ। তবে এই দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে।

তিনি একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন: "কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা কি সংবিধানের ওপরে স্থান পেতে পারে?" তার মতে, যেকোনো বড় পরিবর্তন হতে হবে সংসদের মাধ্যমে এবং আইনি বিধিবিধান মেনে। তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজপথের আবেগ নিয়ে সংসদে এসে সংবিধান বহির্ভূত দাবি না তোলেন। বরং কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তব্যে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, সরকার সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তা কোনোভাবেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে 'ইমোশন' বা আবেগ সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদের এই আহ্বান মূলত বিরোধী দলের প্রতি একটি বার্তা যেখানে তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এবং সংসদীয় আইন অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এএন

Link copied!