আমার সংবাদ ডেস্ক
মার্চ ৩১, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
সরকার ফায়ার সার্ভিসকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা থেকে পৃথক করে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো বড় ধরনের দুর্যোগে সমন্বয় বাড়ানো এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
দূর্যোগ মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ফায়ার সার্ভিসও এই পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা একাধিক স্থানে পৃথকভাবে কাজ করায় সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বড় ধরনের দুর্যোগে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।
সরকারি সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিসকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা হলে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। ফলে যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সুষ্ঠু সমন্বয় সহজ হবে।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিজস্ব কাঠামো সাজানোর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিপিপি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা। পাশাপাশি, ভূমিকম্প বা অন্যান্য বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দূর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর করার কাজ চলমান রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রক্রিয়া এখনো প্রক্রিয়াধীন।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো দুর্যোগে লিড মন্ত্রণালয় হিসেবে নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় অনুমোদিত সংস্থাগুলোও মাঠে নিজস্ব নির্দেশনা দেয়, যা সমন্বয়ের অভাব তৈরি করে। তাই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
যুগ্ম সচিব মো. কোরবান আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ফায়ার সার্ভিসকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এএন