ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

১৩ এপ্রিল তিন জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

১৩ এপ্রিল তিন জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ঝরনা আর সবুজ অরণ্যের মাঝে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব 'বৈসাবি' বা 'বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু' ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। এই আনন্দের মাত্রাকে আরও বেগবান করতে সরকার আগামী ১৩ এপ্রিল দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, 'চৈত্র সংক্রান্তি' এবং পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক উৎসব উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর কাছে বছরের এই সময়টি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা বছরের শেষ দিন এবং নতুন বছরের শুরুকে কেন্দ্র করে তারা পালন করে বৈচিত্র্যময় উৎসব।

চাকমাদের 'বিজু', মারমাদের 'সাংগ্রাই', আর ত্রিপুরাদের 'বৈসুক' এই তিন উৎসবের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত হয়েছে 'বৈসাবি'। যদিও প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে, তবুও উৎসবের মূল সুর এক পুরনো বছরের গ্লানি মুছে নতুনকে বরণ করে নেওয়া।

চৈত্র সংক্রান্তির এই দিনে পাহাড়ি জনপদে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র‍্যালি, জল উৎসব (ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল) এবং ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। এই উৎসবগুলো কেবল আনন্দের নয়, বরং তাদের জাতিগত পরিচয় এবং সম্প্রীতির প্রতীক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির আওতা এবং প্রয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রদান করা হয়েছে। এই সাধারণ ছুটি শুধুমাত্র রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের জন্য কার্যকর হবে।

পার্বত্য তিন জেলার বাইরে অর্থাৎ দেশের অন্য কোনো প্রান্তে যদি সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোনো ব্যক্তি বসবাস বা কর্মরত থাকেন, তবে তাদের জন্য ১৩ এপ্রিল ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, তারা চাইলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

সাধারণ ছুটির আওতায় থাকলেও ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে এবং যথারীতি চালু থাকবে।

১৩ এপ্রিলের এই ছুটির ঘোষণা আসার পর থেকেই পার্বত্য জেলাগুলোতে খুশির জোয়ার বইছে। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে শুরু করে বান্দরবানের মেঘলা বা খাগড়াছড়ির আলুটিলা সর্বত্রই এখন সাজসাজ রব।

উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। এদিন ভোরে নদীর ঘাটে ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর পূজা করা হয়। ছুটির কারণে এবার স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৩ এপ্রিল যেহেতু সাধারণ ছুটি, তাই ওইদিন মূল উৎসবের জাঁকজমক থাকবে চোখে পড়ার মতো। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা, বিশেষ খাবার 'পাজন' রান্না করা এবং পাড়ায় পাড়ায় আনন্দ শোভাযাত্রা এই ছুটির দিনের প্রধান আকর্ষণ।

পার্বত্য জনপদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। এই ছুটির সিদ্ধান্ত পাহাড়ের মানুষের নিজস্ব উৎসব পালনে বড় ধরনের মানসিক ও প্রশাসনিক সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

এপ্রিল মাস মানেই উৎসব আর ছুটির মাস। সংবাদ মাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ১৩ এপ্রিলের এই পার্বত্য জেলাগুলোর ছুটি অনেক চাকুরিজীবীর জন্য দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ, এরপরই ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি। যারা একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বা ম্যানেজ করে ছুটি নিতে পারবেন, তারা টানা ৫ দিনের একটি দীর্ঘ বিরতি পেতে পারেন। ফলে পর্যটন শহরগুলোতে হোটেল-মোটেল বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তটি মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার রয়েছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বড় উৎসবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা সেই চেতনারই প্রতিফলন। ১৩ এপ্রিলের এই ছুটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের লাল দাগ নয়, বরং পাহাড় আর সমতলের মাঝে সংস্কৃতির সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস।

পার্বত্য তিন জেলার বাসিন্দারা এখন প্রহর গুনছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন ১৩ এপ্রিলের সকালে পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বেজে উঠবে উৎসবের বাঁশি। আর সরকারের এই প্রশাসনিক সহযোগিতা সেই আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এএন

Link copied!