আমার সংবাদ ডেস্ক
এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
চট্টগ্রামে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে নগরজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং, আর তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু জীবনযাত্রাই ব্যাহত হচ্ছে না, অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় শহরের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। এ সময় উৎপাদন দেখানো হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট। সে সময় সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট, ফলে লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান-১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্টসহ মোট ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ শূন্য উৎপাদনে ছিল। এর মধ্যে বড় কেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট সকালবেলা আংশিক উৎপাদন করলেও সন্ধ্যায় তা বন্ধ হয়ে যায়। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল আছে মাত্র দুটি।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী, বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন চাপের মুখে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
এএন