ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন ঢাকা গড়ার মহাপরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন ঢাকা গড়ার মহাপরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

রাজধানীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী, বারিধারা লেকের সামগ্রিক উন্নয়ন, পানি দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বা বিএনপি চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সভায় গুলশান লেক ও এর আশপাশের এলাকার পরিবেশ রক্ষা, सौंदर्यবর্ধন এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক সুযোগ, সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

‎একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মেগাসিটি হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে বিগত কয়েক বছরে অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিষ্কাশন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লেকটির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

আজকের বৈঠকে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এগুলো হলো লেকের পানিতে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং আধুনিক ফিল্টারিং ব্যবস্থার প্রবর্তনের মাধ্যমে পানি দূষণ প্রতিরোধ, লেকের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং চারপাশের সবুজায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, লেকের পাড় ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, বসার জায়গা এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প এবং নগরবাসীর বিনোদন ও সুস্থতার জন্য লেকটিকে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা।

‎বৈঠকের শুরুতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুলশান, বনানী, বারিধারা লেকের বর্তমান অবস্থা, পানির গুণগত মান এবং চারপাশের অবৈধ দখলদারিত্বের একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, আশপাশের বিভিন্ন বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃবর্জ্যের লাইন সরাসরি লেকে সংযোগ দেওয়ার কারণে লেকের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগের প্রস্তাবনা পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে লেকে পানি প্রবেশের সব মুখে ছোট ও মাঝারি আকারের সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি স্থাপন, লেকের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা অনতিবিলম্বে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ অভিযান এবং লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে কৃত্রিম ফোয়ারা ও জলজ উদ্ভিদ রোপণের মাধ্যমে ইকো, সিস্টেম পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা।

‎উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের জলাশয়গুলোকে রক্ষা করতেই হবে। গুলশান লেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদকে আর এভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ সুয়ারেজ লাইনগুলো চিহ্নিত করে তা বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন কেবল কাগজ, কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত দৃশ্যমান হয়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন হতে হবে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব। জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

‎আজকের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারিং সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব এবং পরিদপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বা এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বা ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বা ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব বা এপিএস আব্দুর রহমান সানি এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বা রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন সচিব এবং প্রকৌশলীবৃন্দ এই সভায় অংশ নেন এবং তাদের মূল্যবান মতামত ও কারিগরি পরামর্শ তুলে ধরেন।

‎বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসক এবং রাজউক চেয়ারম্যান লেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা জানান, সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকের যৌথ উদ্যোগে খুব দ্রুতই লেক এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন করতে এবং এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করতে বিশেষ প্রচারণামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি কেবল রাজধানীর সৌন্দর্যই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বজায় রাখতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন পরিবেশবিদরা।

‎জেএইচআর

Link copied!