ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
জুলকারনাইন সায়ের

জুলাই জাদুঘরে উপদেষ্টা ফারুকীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুন ২৮, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

জুলাই জাদুঘরে উপদেষ্টা ফারুকীকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল

আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান দাবি করেছেন, জুলাই জাদুঘরের ভেতরে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে হত্যার একটি পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে যে, শ্রমিকের ছদ্মবেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জাদুঘরে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে জুলাইয়ে ছাত্র হত্যা মামলার আসামিও ছিল এবং তারা অতর্কিত হামলার মাধ্যমে ফারুকীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন। পোস্টে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত নির্দেশনা না এলে জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন আগামী আগস্টেও সম্ভব হবে না। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার জাদুঘর পরিদর্শন করে এর প্রশংসা করেছেন এবং আগস্টের আগেই উদ্বোধনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জুলকারনাইন সায়ের অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলা এবং সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর সমর্থনে জাদুঘরের উদ্বোধন বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, সরকার গঠনের পর থেকে জাদুঘরসংক্রান্ত কোনো ফাইলই অগ্রসর হয়নি। ফলে এখনই নির্দেশনা এলেও ৫ আগস্টের মধ্যে উদ্বোধন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংস্কৃতিসচিব জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তনের কথা বলেছেন। অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ যে আইন পাস করেছে, তা পরিবর্তনের এখতিয়ার সচিবের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো নিয়োগ প্রক্রিয়া অন্তত দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া এবং অযোগ্য লোক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্যক্তি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাদুঘরটি পরিদর্শন করে এর প্রশংসা করেছেন। ফ্রান্সের লা মোঁদে, জার্মানির টাজ এবং ব্রিটিশ ডেইলি টাইমসও জাদুঘরটির ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান; তাই বিভিন্ন দপ্তর থেকে লোক এনে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। দক্ষ ও বিশেষায়িত জনবল নিয়োগের পাশাপাশি এতদিন কাজ কেন বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলকারনাইন সায়ের আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পরপরই গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক বছরের মধ্যে বড় একটি দল নিয়ে সেই কাজ প্রায় সম্পন্ন করেন, যা তার ভাষায় ‘প্রায় অবিশ্বাস্য’।

পোস্টের শেষাংশে তিনি দাবি করেন, জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলাকালে জাতীয় নির্বাচনের প্রায় তিন মাস আগে এর ভেতর থেকে একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছিল। সে সময় ফারুকী নিয়মিত জাদুঘরের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে দাপ্তরিক কাজ করতেন। গ্রেনেড উদ্ধারের পর ডিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে শ্রমিকের ছদ্মবেশে প্রবেশ করা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, সে সময় জাদুঘর ঘিরে যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার পেছনের কারণও ছিল এই তথ্য।

সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, জাদুঘরের উদ্বোধন বিলম্বিত করার পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য জনগণের কাছে স্পষ্ট। তার ভাষায়, একটি স্বৈরশাসনের নির্যাতনের স্মারক হিসেবে সাবেক শাসকের বাসভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলে সেই শাসনব্যবস্থার বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে, আর সেটিই কিছু মহলের অস্বস্তির কারণ।

এএন

Link copied!