জবি প্রতিনিধি
জুন ২৮, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
শিবির কোনো খারাপ কাজ করলে তার সমালোচনা করতে এবং সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি বলেন, ভুল করলে যে কোনো সংগঠনকেই জনগণের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, শিবির যদি খারাপ কাজ করে, তাদের সমালোচনা করো। তাদের এড়িয়ে চলো। আমি তো ওদের সামনেই বলে যাচ্ছি, তোমরা তাদের এড়িয়ে চলো। তাদের একটা শিক্ষা দাও যে, তোমরা খারাপ কাজ করছো, তাই আমরা তোমাদের সমর্থন করব না।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের মূল শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। প্রতিভাবান, সৃজনশীল ও যোগ্য তরুণদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রাইভেট, পাবলিক, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর-সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও সৃজনশীল তরুণদের যোগ্য স্থানে বসাতে না পারলে দেশ প্রকৃত অর্থে প্রতিভার বিকাশ দেখতে পাবে না।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি তোমরা সত্যিকার অর্থেই যোগ্য হও, তাহলে মানুষ একসময় তোমাদেরই খুঁজে নেবে। নিজের যোগ্যতা তৈরি করো। রাজনৈতিক আধিপত্য বা জটিল সমীকরণের দিকে তাকিয়ে থেকো না। কে বিএনপি করে, কে জামায়াত করে, কে শিবির করে বা কে অন্য কোনো দল করে-এসব নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে প্রতিষ্ঠা করা।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শিশির মনির বলেন, এসো আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যা আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ হবে এবং উন্নয়ন, মানবাধিকার, আইন, ব্যবসা-বাণিজ্য, গবেষণা ও সৃজনশীলতায় বিশ্বের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনীতি যে যার মতো করতে পারে। কিন্তু সরকার বা বিরোধী দল-যেই হোক না কেন, যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকবে, শিক্ষার্থীদের উচিত তাদেরই সমর্থন করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ। সঞ্চালনায় ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল।
এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
এছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসের (রাশিয়া) ক্যান্ডিডেট অব সায়েন্স ড. মো. নূরুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সাদী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম।
এম জি