জহিরুল হক রাসেল, কুমিল্লা
আগস্ট ২৭, ২০২৫, ০২:৩১ পিএম
‘ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বিএনপি কেউ নয়, তিনি সুবিধাভোগী’ মন্তব্য করে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন- তা অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার মামুন বলেন, ‘অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া যে বক্তব্য রেখেছেন তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সেলিম ভুঁইয়ার সাথে আমার কোনো বিরোধী নেই। গত ২৪ আগস্ট নির্বাচনি এলাকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন শুনানির আয়োজন করে। সেই শুনানিতে মেঘনা ও দাউদকান্দির পক্ষ থেকে আমাকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তার বিপক্ষে তাদের অ্যাডভোকেট শুনানি করার পর অ্যাডভোকেট সেলিম ভূইয়াও বক্তব্য দিলেন।
যদিও তার আগেই সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার তাই বক্তব্য আর শোনা হয়নি। আমার বক্তব্যের সময় সেলিম ভূইয়া বাঁধা দেওয়া শুরু করলেন, আমাকে বললেন ‘হু আর ইউ’? পরে উনাদের থামানোর পর আমি আর বক্তব্য দিলাম।’ কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম ২৫ আগস্ট একটি দলীয় অনুষ্ঠানে সেলিম ভূইয়া বলেছেন, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ১৮ সালের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বলেছি। অথচ আমি সেখানে বলেছিলাম ‘মেঘনা এবং দাউদকান্দি ২০০৮ সালের নির্বাচনের, ১৪ সালের নির্বাচন এবং ১৮ সালের নির্বাচনেও একই সীমানা ছিল। ২৩ সালে এসে এটাকে চেঞ্জ করা হয়েছে। তবে ২৩ সালের বিষয়টা আলোচনায় আসবে না। কারণ ওই পরিবর্তন এনে ২৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছে; সেই ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে সরকার মামলা করেছে। আমি এই বক্তব্যটাই দিয়েছি। আমি কখনোই বলি নাই ১৮ সালের ইলেকশন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সেই প্রেক্ষিতে কুমিল্লার সম্মেলনে সেলিম ভূইয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন; তা বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট।’
ব্যারিস্টার মামুন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা সুবিধাভোগী নয়। বরং দীর্ঘ বছর ধরেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলায় লড়াই চালিয়েছি। শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তখনো আমি সকল ভয় উপেক্ষা করে শেখ মুজিবুর রহমানের মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। জাতীয় চার নেতার জেলহত্যা মামলা আমি পরিচালনা করেছি। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যাকে শেখ হাসিনা বস্তাবন্দি করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলো; সেই মামলাও আমি অধ্যাপক ইউনূসের পক্ষে লড়াই করেছি। তারপরও আমাকে যদি বলা হয় আমি আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী- তা কতটুকু সত্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনের আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত আছি আর বাকি জীবনটাও বিএনপি করে কাটিয়ে দিতে চাই। যখন আমি কুমিল্লা - ৫ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তখন আমার প্রতি একটি কুচক্রীমহল ঈশ্বান্বিত হয়ে আমার গণসংযোগ মতবিনিময় সভায় বাধা এবং আমার পোস্টার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা এবং কার্যক্রমে বাধা প্রদান করা এবং আমার নেতাকর্মীদেরকে হুমকি-ধামকি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। আমি ব্রাহ্মণপাড়া সন্তান সুখে দুঃখে ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচংবাসীর পাশে ছিলাম আছি এবং থাকব।’
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত করিম ভূইয়া, বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান দিদার ভূইয়া, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবু ইউসুফ বাবুল, জয়নালী হাজারী প্রমুখ।
ইএইচ