জহিরুল হক রাসেল, কুমিল্লা
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৮:৩২ পিএম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না হলে আগামী দিনে দেশে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব ঘটতে পারে।
বলেন, “১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বৈরাচার দেশের কাঁধে বসেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে সেই স্বৈরাচার থেকে দেশকে রক্ষা করেছিলেন। পরবর্তীতে আবারও স্বৈরাচার এসেছে, জনগণ তাদেরকে বিতাড়িত করেছে। বিগত ১৫ বছরও দেশের কাঁধে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, জনগণ তাদেরও সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি গণতন্ত্রের শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, তাহলে আগামী দিনেও গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব ঘটতে পারে।”
শনিবার বিকালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় টাউনহল মাঠে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৫-১৬ বছর আমরা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সাথে নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমাদের নেতাকর্মীরা হত্যার শিকার হয়েছে, গুম হয়েছে, কারাগারে মারা গেছে, হাজারো কর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। আজ স্বৈরাচার পতিত হয়েছে। এখন সামনে কাজ দেশ গঠন ও পুনর্গঠন। এজন্য অবশ্যই নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
দেশ গঠনে জনগণই মূল শক্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি ঘর গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হয়, কিন্তু ধ্বংস করতে বেশি লোক লাগে না। এই দেশ আমাদের সবার ঘর। গত ১৫-১৬ বছর এ ঘরে ডাকাত পড়েছিল, জনগণ তাদের সরিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব ঘর পুনর্গঠন করা।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন থেকে শুধু সমাবেশ নয়, ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাদের জানাতে হবে বিএনপি কীভাবে দেশ পুনর্গঠন করবে, কীভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন করবে, কীভাবে যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করবে। দেশের প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের কাছে আমাদের এই বার্তা পৌঁছাতে হবে।”
ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—ঐক্য ও দেশ গঠন। জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস। জনগণ যেভাবে চায়, আমাদের সেভাবে কাজ করতে হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা ঐক্যবদ্ধ বিএনপি গড়ার শপথ নিতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, তারপর ঐক্য ও দেশ গঠন।”
সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “রাজনীতি দিয়ে ইসলামকে বিভক্ত করতে চাওয়াদের ভোটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। যারা জান্নাতের টিকেট বিক্রি করছে, তারা ধর্মব্যবসায়ী। এই দেশে চেতনার ব্যবসা চলবে না।”
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “একাত্তরের চেতনার ব্যবসা করতে করতে তিনি শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির মৃত্যু ঢাকায় হয়েছে, আর দাফন হয়েছে দিল্লীতে।”
এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ভিপি ওয়াসিম।
দুপুর থেকে ১৪১৪ জন ডেলিগেটসহ হাজারো নেতাকর্মী সম্মেলনস্থলে জড়ো হন। সম্মেলন শেষে দক্ষিণ জেলার নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।
ইএইচ